আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি :
কেশবপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রামন রোধে উপজেলা প্রশাসনের ডাকা সপ্তাহব্যাপী লকডাউনের ৩ম দিন শুক্রবার কঠোরভাবে পালিত হয়েছে। বিধিনিষেধ না মানায় শুক্রবার ১৪ পথচারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭ হাজার ৪শ’ টাকা জরিমানা আদায় করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম এম আরাফাত হোসেন।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা লকডাউন কার্যকর করতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা ও থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দীনের নেতৃত্বে উপজেলা ব্যাপী টহল অব্যাহত রেখেছেন। বিভিন্ন সড়কে বাঁশ টানিয়ে লগডাউন কার্যকর করা হচ্ছে।এদিকে বৃহস্পতিবার লকডাউনের ২ম দিনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন সরকারী নির্দেশনা অমান্যকারি ১১ জনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৬ হাজার ৩ শত টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। অপরদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা সরকারী নির্দেশনা অমান্যকারি ৮ জনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ৩ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।
কেশবপুরে লকডাউনের ৩ম দিনে কঠোর কড়াকড়ি
কেশবপুরে লকডাউনের ৩ম দিনে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে।
কেশবপুর পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও মোড়ে মোড়ে পুলিশি টহলের পাশাপাশি চেকপোস্ট বসিয়ে জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এ কারণে সড়ক ও হাটবাজারে মানুষের চলাচল ছিল খুবই কম। পাশাপাশি লকডাউনের নির্দেশনা না মানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালেই কেশবপুর শহরে প্রবেশের প্রতিটি স্থানে ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি টহলের পাশাপাশি চেকপোস্ট বসানোসহ রাস্তায় বাঁশ বেধে যাতায়াত করা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। সড়কে যাত্রাবাহী বাস না চললেও ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারি চালিত ভ্যানে যাত্রী নিয়ে আসার পথে তারা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। ওই সমস্ত যানবাহন প্রবেশ করতে না দেওয়ায় প্রয়োজন ব্যতীত ঘর থেকে বাইরে আসা মানুষেরা ফিরে গেছে। এদিকে নিরুপায় হয়ে অনেককে প্রায় ১ কিলোমিটার দূর থেকে পায়ে হেটে শহরে আসতে হয়েছে। প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতায় দুপুর ১২টার পরপরই ওষুধের দোকান ব্যতীত সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। তবে এর মধ্যে যারা লকডাউনের নির্দেশনা মানেননি তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের প্রবেশ পথসহ এলাকায় এলাকায় কঠোর নজরদারি চলছে। ঘোষিত লকডাউনের বিধিনিষেধ মেনে যেভাবে মানুষ ঘরে থাকছে এভাবে চললে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমানো যাবে।


