আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে যৌতুকের দাবী এনে ২ গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করেছে পাষ- স্বামী বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম ২ গৃহবধূ কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলার বাউশলা গ্রামের মোস্তাক সরদারের মেয়ে পারুল খাতুন (২১) সাংবাদিকদের জানান, ২০১৫ সালে ডুমুরিয়া উপজেলার বাদুড়িয়া গ্রামের জলিল খার ছেলে আল আমিন খা (২৬) এর সঙ্গে ১ লক্ষ ১ টাকা দেন মোহরে ইসলামী শরীয়াত মোতাবেক উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় স্বামীকে নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ প্রায় ২ লক্ষ টাকার সাংসারিক মালামাল দেওয়া হয়। সে আরও বলেন, বিয়ের পর যৌতুকের দাবি এনে বিভিন্ন সময় পাষন্ড স্বামী আল আমিন খা আমাকে ঘরের ভেতর আটকে অমানুষিক নির্যাতন চালাত। তার যন্ত্রনা সইতে না পেরে পিতার বাড়ি থেকে আমার স্বামীকে ৩০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার পরও থেমে থাকেনি তার নির্যাতন। সর্বশেষ গত সোমবার বিকেলে ২ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবি এনে আমার স্বামী ও শ্বাশুড়ি লায়লী বেগম মিলে আমাকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন দপ্তরে অভিযোগ হয়নি বলে আহত ব্যক্তি জানান। এ ব্যাপারে মুঠো ফোনে আল আমিন খার কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার স্ত্রীকে মারপিট করা হয়েছে। তার কাছে যৌতুকের দাবি করার কোন প্রশ্নই উঠেনা। গত ৩ মাস আগে আমার স্ত্রী বাড়ি থেকে তার পিতার বাড়ি গিয়ে আমার বিরুদ্ধে এই সমস্ত যৌতুকের দাবি এনে আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। এ দিকে, কেশবপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ও যৌতুকের দাবী এনে ৩ সন্তানের জননীকে পিটিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম অবস্থায় আহত ব্যক্তিকে কেশবপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার কালিয়ারই গ্রামের আকাম আলী শেখের মেয়ে পারভীনা খাতুন (২৭) সাংবাদিকদের জানান, একই উপজেলার বড়েঙ্গা গ্রামের মৃত আমজেদ খার ছেলে আবদার খা (৩৫) এর সঙ্গে ইসলামী শরীয়াত মোতাবেক উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় স্বামীকে নগদ ৯৬ হাজার টাকাসহ প্রায় ১ লক্ষ টাকার সাংসারিক মালামাল দেওয়া হয়। সে আরও বলেন, বিয়ের পর যৌতুকের দাবি এনে বিভিন্ন সময় পাষন্ড স্বামী আবদার খা আমাকে ঘরের ভেতর আটকে অমানুষিক নির্যাতন চালাত। তার যন্ত্রনা সইতে না পেরে পিতার বাড়ি থেকে আমার স্বামীকে ২০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার পরও থেমে থাকেনি তার নির্যাতন। সর্বশেষ গত সোমবার বিকেলে আবারও ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবি এনে ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার স্বামী আমাকে পিটিয়ে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন দপ্তরে অভিযোগ হয়নি বলে আহত ব্যক্তি জানান। এ ব্যাপারে মুঠো ফোনে আবদার খার কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আমার বিরুদ্ধে যত পারেন তত লেখেন। ততাতে আমার কোন সমস্যা নেই। আমার স্ত্রীকে মারপিট করা হয়নি। তার কাছে যৌতুকের দাবি করার কোন প্রশ্নই উঠেনা।



