আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবু সাঈদ লাভলুর চাঁদাবাজি, দলীয় নেতাকর্মীদের মারপিট, নির্যাতন ও মামলাসহ বিভিন্ন অপকর্মের খতিয়ানের একটি লিফলেট গত রোববার সকালে উপজেলা ব্যাপী বিতরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের দুই কর্মীকে শারীরিক নির্যাতনসহ পুলিশে দিয়ে নাশকতা মামলায় ঢোকানো হয়েছে বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেছেন। নির্যাতিত দুই নেতার মধ্যে একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপরজনকে পুলিশ নাশকতা মামলায় আদালতে সোপর্দ করেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রচারিত হ্যান্ডবিলে উল্লেখ করা হয়েছে, কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পাঁজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুলের ভাইপো আবু সাঈদ লাভলু পাঁজিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরী দেয়ার কথা বলে, ঘের দখল ও ঘর দখলসহ ভয় দেখিয়ে ৮৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা আদায় করেছে। এছাড়াও আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মারপিট এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলেও ওই হ্যান্ডবিলে উল্লেখ করা রয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার আবু সাঈদ লাভলু হ্যান্ডবিল সংগ্রহ করে থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ ওই রাতেই আওয়ামীলীগের কর্মী বজলুর রহমান খানকে আটক করে ০১/০২/১৮ তারিখের নাশকতা সৃষ্টির মামলায় মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করে। আহত পাঁজিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত হোসেনকে পাঁজিয়া যুবলীগ অফিসে নিয়ে লাভলু ও তার ভাই ফাইল নাজমুলসহ সন্ত্রাসীরা বেদম মারপিট করে আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগেও লাভলু বাহিনী ওই ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনকে টিউবয়েলের হাতল দিয়ে মারপিট করে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। কেশবপুর থানার এস আই ফকির ফেরদৌস আলী জানান, বজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে নাশকতা মামলায় মঙ্গলবার সকালে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে লাভলুর চাচা পাঁজিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, একটি প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে লাভলুর বিরুদ্ধে মিথ্যা লিফলেট তৈরী করে বিতরণ করেছে। এ ঘটনায় দলীয় ছেলেরা বেলকাটি গ্রামের বজলুর রহমানকে ধরে পুলিশে দিয়েছে। তবে তিনি সাজ্জাত হোসেনের মারপিটের ঘটনার কিছু জানেন না বলে জানান।
এ ব্যাপারে আবু সাইদ লাভলু সাংবাদিকদের জানান, আমার নামে লিফলেটে যা কিছু লেখা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজনগর বাকাবরশি গ্রামের হারুন অর রশিদ ও মেহেদী হাসানের নাম ব্যবহার করে রাতের আধারে বিলি করা হয়েছে। এ ছাড়া মনিরামপুর পোস্ট অফিস থেকে কেশবপুরের ইউএনও, ওসি, যুবলীগের আহবায়ক ও সকল ইউপি চেয়ারম্যানের নামে পোস্ট করা হয়েছে।



