আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি:একাত্তর সালের এই দিনে কাঙ্খিত বিজয় সত্যি হয়ে দেখা দিয়েছিল বাঙ্গালি জাতির জীবনে। ৪৮ বছর আগে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এই দিনে এসেছিল বাংলার স্বাধীনতা। এই দেশে উদিত হয়েছিল নতুন এক সূর্যের। সে সুর্য কিরণে লেগে ছিল রক্ত দিয়ে অর্জিত বিজয়ের রঙ। সেই রক্তের রঙ সবুজ বাংলায় মিশে তৈরি করেছিল বাংলার লাল-সবুজ পতাকা। গত বুধবার ছিল বিজয়ের সেই দিন। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দেশের সর্বত্রে অফিস আদালত, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বিভিন্ন দলীয় অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও উপজেলার সেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিত্রাণের কার্যালয়ে উত্তোলন করা হয়নি জাতীয় পতাকা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ সংস্থার অফিস হলেও বিষয়টি যেন সবার অগোচরেই রয়ে গেছে।
সরেজমিনে বুধবার সকাল ১১ টা ৩৪ মিনিটে শহরের অনন্ত সাহা স্মৃতি সড়কে গিয়ে দেখা যায় পরিত্রাণ অফিসের কার্যালয়টি খোলা রয়েছে। কিন্তু কার্যালয়ের সামনে উত্তোলন করা হয়নি জাতীয় পতাকা। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের খামখেয়ালিপনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করছে সচেতন মহল। এ ধরনের দায়িত্বহীনদের জবাবদিহীতার আওতায় আনার দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।
এবিষয়ে পরিত্রাণ কেশবপুর অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার উজ্জল দাস বলেন, পরিত্রাণ সংস্থার মাধ্যমে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়নের কাজ করা হয়। বিজয় দিবসের দিন পরিত্রাণ কার্যালয়ে পতাকা টাঙ্গানো হয়েছিলো বলে তিনি দাবি করেছেন।
কেশবপুরে ভাসুরের হাতে দুই দফায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নির্যাতনের শিকার
আজিজুর রহমান,কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:
কেশবপুরে জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ভাসুরের হাতে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী দুই দফায় নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুচিত্রা মালাকর কেশবপুর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছে।
এ ঘটনায় রাজীব চৌধুরীর স্ত্রী সুচিত্রা মালাকর বাদি হয়ে তার দুই ভাসুরের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এদিকে থানায় লিখিতি অভিযোগের কথা শুনে সুচিত্রা মালাকরের পরিবারের লোকজনকে বাড়িতে বের হতে না দিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে মধুসূদন চৌধুরী ও গোপীনাথ চৌধুরী বলে অভিযোগ । এমন কি বাড়ি থেকে বের হলে শিশু কণ্যাসহ রাজীব চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুচিত্রাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে ঘরের মধ্যে সুচিত্রা মালাকরসহ তার পরিবার বন্ধী জীবন পার করছে। শনিবার সকালে থানায় দায়ের করা
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের মৃত গোপাল চৌধুরীর রেখে যাওয়া সাতবাড়িয়া মৌজার ৪৫৪ নং খতিয়ানের ৮২৬ নং দাগের জমি সুষ্ঠভাবে বন্টন না করে জোরপূর্বক দখল করে মধুসূদন চৌধুরী বসত ঘর নির্মাণ করতে থাকে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সুচিত্রা মালাকর ঘর নির্মাণের জায়গার নিকট গেলে তার ভাসুর মধুসূদন চৌধুরী ও গোপীনাথ চৌধুরী অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার এক পর্যায়ে ভাসুর মধুসূদন চৌধুরী ও গোপীনাথ চৌধুরী সুচিত্রা মালাকর কে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারপিট করে গুরুতর আহত করে। চলতি মাসে ১ ডিসেম্বর ভাসুর মধুসূদন চৌধুরী সুচিত্রা মালাকর কে মারপিট করাসহ তার পরণের শাড়ি কাপড় ধরে টানা হেচড়া করে শ্লীলতাহানির ঘটিয়েছিল। ঐ ঘটনায় রাজীব চৌধুরীর স্ত্রী সুচিত্রা মালাকর বাদি হয়ে তার দুই ভাসুর মধুসূদন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিল। এ ব্যাপারে মধুসূদন চৌধুরীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দেওয়া হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেশবপুর থানার তদন্ত ওসি শেখ ওহিদুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ,,,,,,,
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকতে চাই- নাসরিন ইসলাম
আজিজুর রহমান,কেশবপুর (যশোর)প্রতিনিধি:
প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, তারাও মহান সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়ানোর। এখানে এসে সে সুযোগ তৈরি হয়েছে। এদের দেখে আমি তাদের মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। আজ থেকে এই প্রতিবন্ধী শিশুরা আমার সন্তান। আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিবন্ধীদের পাশে থেকে তাদের জন্য কিছু করতে চাই। বুধবার দুপুরে কেশবপুর শহরের সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রোটারী ক্লাব অব খুলনা সিটির সাধারণ সম্পাদক নাসরিন ইসলাম উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, শত ব্যস্ততার মধ্যেও খুলনা থেকে আজ এখানে এসেছি। এ প্রতিষ্ঠানের যে সকল প্রতিবন্ধীরা বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তাদের প্রত্যেক মাসের খরচ আমি পাঠিয়ে দিব। এছাড়া এখানকার সকলের জন্য খুব শীগ্রহ শীতবস্ত্র নিয়ে আসবো। এরা শীতে কষ্ট পেলে আমরা তো শীতবস্ত্র পরিধান করেও স্বস্তি পাবো না।সুবোধ মিত্র কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি জে.বি মুন্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিলন মিত্রের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন, খুলনা মহানগরের মহিলা লীগ নেত্রী মাহবুব আক্তার সুমি ও শিরিনা পারভীন। স্বাগত বক্তব্য দেন, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি নাসরিন ইসলামকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় প্রদানসহ অতিথিবৃন্দদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান শিক্ষক এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। এ সময় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হুসাইন কবির হৃদয় কোরআন তেলওয়াত ও দীপ্ত কুমার পাল গীতা পাঠ করেন। এদিন দুপুরে বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক প্রতিবন্ধী ও তাদের অভিভাবকের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
কেশবপুরে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উদযাপন
আজিজুর রহমান,কেশবপুর (যশোর)প্রতিনিধি:
মুজিব বর্ষের আহ্বান, দক্ষ হয়ে বিদেশ যান” এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কেশবপুরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে এ উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা করেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, সহকারী প্রোগ্রামার আব্দুস সামাদ, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা জি এম আজমল হোসেন ও কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক লিখন কুমার সরকার। এ সময় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাবৃন্দরাও তাদের মতামত প্রকাশ করেন। মতবিনিময় সভায় সরকার অনুমোদিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈধভাবে বিদেশ যেতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
কেশবপুরে ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ত্রিবেণী বিজয়ী
আজিজুর রহমান,কেশবপুর (যশোর)প্রতিনিধি:
কেশবপুরে নারায়ণপুরে ৮ দলীয় শেখ গোলাম সরোয়ার স্মৃতি টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমীন প্রধান অতিথি হিসেবে এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন।
জাগ্রত যুব সংঘের আয়োজনে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এস এম মহব্বত হোসেন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাউসুল আযম তুহিন পাড়, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক রমেশ চন্দ্র দত্ত, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জসিম উদ্দীন ও গাজী আজহারুল ইসলাম।উদ্বোধনী খেলায় মণিরামপুর উপজেলার ত্রিবেণী স্বেচ্ছাসেবী সংঘ বনাম অংশগ্রহণ করে। খেলাটি ট্রাইবেকারে গড়ালে রাজগঞ্জ একতা ক্লাবকে ৬-৫ গোলে হারায় ত্রিবেণী স্বেচ্ছাসেবী সংঘ। এ ফুটবল খেলা দেখার জন্য মাঠের চারপাশে দর্শকদের ছিল উপচে পড়া ভীড়।


