কেশবপুরে এক বিদ্যালয়ে শতবর্ষী শিমূল গাছের মৃত্যু বিপদের ঝুকিতে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা

408

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে উপজেলার বসুন্তিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানায় চলার পথে শতবর্ষী শিমূল গাছের মৃত্যু হওয়ায় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের বিপদের ঝুকিতে পরিনত হয়েছে। পথচারীরা সংকিত। বিদ্যালয়ের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে তিন রাস্তার সংযোগ স্থলে শতবর্ষী একটি শিমূল গাছ আছে যা প্রায় বছর খানেক আগে মারা গেছে। গাছটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে বাকল উঠে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাসনা রাণী সরকার বলেন, রৌদ্র-বর্ষায় গাছের ডাল পালা খষে খষে পড়ছে, ফলে যে কোন মুহূর্তে ডাল পালা কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাথায় পড়ে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ইতিমধ্যে মালবাহী ট্রাকের ধাক্কায় গাছের একটি ডাল ভেঙ্গে পড়েছে। আমরা কেশবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জানিয়েছি। তিনি বলেছেন ম্যানেজিং কমিটি ডেকে একটা রেজুলেশন করে গাছটির ডাল পালা গুলো কেটে ফেলতে। গাছ মারা আদেশ আমরা দিতে পারিনা। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মঙ্গলকোট আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন ২০১৮ সালের প্রথম দিকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক-এর হস্তক্ষেপে রাস্তা তিনটি পাকা করণ হওয়ায় লোক চলাচল তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন শত শত লোক জন এই রাস্তা দিয়ে চলা ফেরা করে থাকেন। গাছটির ডাল ভেঙ্গে পড়লে পথচারীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেন। বসুন্তিয়া গ্রামের পীর আলী সরদার বলেন আমার বয়স ৭০ বছর, আমি এই বিদ্যালয়ে পড়েছি। বিদ্যালয়টি বসুন্তিয়া মান্দার তলা স্কুল নামে পরিচিত ছিল। গাছটির বয়স একশত বছরের উপরে ছাড়া কম নয়। তিনি গাছটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলে আর একটি নতুন মাদার/শিমূল গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন। বিদ্যালয়ের পাশে বাড়ী সুভাষ কুমার রায় বলেন আমার বয়স ৭৫ বছর। আমি এই রাস্তা দিয়ে প্রতি দিন রাত-বেরাত ৪/৫ বার চলা চল করে থাকি। হিন্দু সম্প্রদায়দের কোন লোক মারা গেলে এই গাছ তলায় একটু জিরান দেয়। হিন্দু সম্প্রদায়রা এর কাঠও পোড়াবে না। এখানে এক সময় জঙ্গল ছিল, ভয়ভীতির কিছু কারণ ছিল এবং এখনও আছে। এই স্কুল মাঠে মানুষের গলা কাটা লাশও পাওয়া গেছে। বহু মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলা চল করে। এই শিমুল গাছ তলার আসলে ভয় ভয় লাগে। সরকারী ভাবে গাছটি কেটে ফেলে স্মৃতি হিসাবে আর একটি মাদার গাছ লাগানো ভাল। এ গাছের ফুলে শোভাবর্ধন করে। এই তিন রাস্তার মোড়ে একটি আলোর ব্যবস্থা করলে সর্ব সাধারণ দারুন উপকৃত হবে। সাথে সাথে আমাদের এম পি জনপ্রশাসন মন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক কর্তৃক এখানে একটি সোলার স্ট্রঢঁ লাইট স্থাপনের দাবী জানাই। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি বাসুদেব কুমার দাস বলেন ছাত্র-ছাত্রীরা কাদায় স্কুলে যেতে পারতো না। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক- এর অবদান এই পীচের রাস্তা তিনটি হওয়ায় রাস্তা উচু হয়ে গেছে এবং গাছের গোড়ায় অনেক মাটি পড়ায় হয়তো গাছটি তাড়া তাড়ি মারা গেছে। ঝুকিপূর্ণ গাছটি সরকারী ভাবে কেটে ফেলে ফুল-ফলে শোভাবর্ধন কারি আর একটি শিমূল গাছ লাগানো ভাল। মঙ্গলকোট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি বজলুর রহমান সরদার ও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আজিজুর রহমান মোড়ল বলেন গত ৩ আগস্ট বসুন্তিয়া সার্বজনীন গাছ তলা পূজা মন্দির প্রাঙ্গনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক- এর উঠান বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান- এর উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ঝুকিপূর্ণ গাছটির কথা বলা হয়েছে। চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র টুটুল বিশ^াসের পিতা লালন বিশ^াস বলেন গাছটি কেটে ফেলে ফুল-ফলে শোভাবর্ধনকারী আর একটি মান্দার গাছ লাগনো উচিৎ। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসীর দাবী বসুন্তিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে তিন রাস্তার সংযোগ স্থলে শতবর্ষী শিমূল গাছটি একে বারে কেটে ফেলে বিদ্যালয়ের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীসহ পথচারীদের বিপদের ঝুকি থেকে রক্ষা করার।