কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামের পিতা–মাতাহারা এতিম সুইটি খাতুন স্বামীর সংসারে ফিরিয়ে যেতে বিচারের আশায় কন্যা শিশু সন্তান নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।
পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ ও গত রোববার সকালে সুইটি খাতুনের সাথে সাক্ষাৎ কালে তিনি বললেন, আমার ৬ মাস বয়সে মা জোহরা বেগম ও ১৬ বছর বয়সে পিতা মোঃ সাদেক হোসেন গাজীর মৃত্যুতে আমি বড় এতিম অসহায় হয়ে পড়ি।
শিশুকাল থেকেই আমি খালার কাছে লালিত পালিত হই। আমার পিতা গরিব দিনমজুর ছিলেন। অতিকষ্টে দিনাতিপাত করে আমি অনার্স পাশ করে বর্তমানে খুলনা আজমখান কমার্স কলেজে মাস্টার্স প্রথম বর্ষের অধ্যায়নরত।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালে প্রতিবেশি পাঁজিয়া গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক গাজীর পুত্র মোঃ রাজু আহম্মেদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। রাজু তার পিতামাতাকে চুরি করে আমার সাথে মিলামেশা করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমাকে নিয়ে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জজকোর্টে এ্যাফিডেভিট করে সাতক্ষীরার নিকাহ রেজিস্টারের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা কাবিনে বিবাহ করে এবং সাতক্ষীরা শহরেই বাসা ভাড়া করে বসবাস ও দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে রাজু আহম্মেদ কেশবপুর পৌরসভার বায়সা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। তবে তাদের বিয়ের কথা রাজুর পিতামাতাকে গোপন করে চলতে থাকে। এক পর্যায় রাজু’র ভগ্নিপতি মনিরামপুরের নেহালপুর গ্রামের মুনসুর রহমানের পুত্র কামাল হোসেনের সহযোগিতায় তাকে যশোর জজকোর্টে নিয়ে তালাক দেওয়ার চেষ্টা করে। ইতিমধ্যে তার গর্ভে সন্তান ধারণ করে। রাজু’র ভগ্নিপতি ও রাজু সন্তান নষ্ট করতে বলে এবং তালাক দিতে ব্যার্থ হয়ে তাকে ফেলে রাজু পালিয়ে যায়। বর্তমানেও সে আত্মগোপনে আছে।
তিনি বলেন, উপায়ন্তর না দেখে আমি পিতার বাড়িতে ফিরে আসি এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেই, নাম তার তুবাতুল জান্নাত। বর্তমান বয়স ৫ মাস। স্বামী রাজু পলাতক থাকলেও তার পিতামাতা কেশবপুর পৌর শহরের কতিপয় বখাটের সহযোগিতায় জজকোর্টের এড তুহিন চন্দ্র মজুমদারের স্বাক্ষরিত ০৭/০৪/২০২১ তারিখের ‘স্ত্রী কর্তৃক স্বামী তালাক’ সংক্রান্ত এক এফিডেভিটের ভুয়া কপি এলাকায় প্রচার করে। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা এবং কোনদিন যশোর যাইনি। সে আরো জানান ভাড়াটিয়া গুন্ডাদের ভয়ে তাকে সবসময় আতঙ্কিত থাকতে হয়।
এদিকে সুইটি খাতুন স্বামীর সংসার পেতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল সাংবাদিকদের জানান দু’দফায় নোটিশ দিয়ে রাজু আহম্মেদকে হাজির পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে রাজু’র পিতা আবু বক্কর সিদ্দিক গাজী ও মাতা সেফালী বেগম সাংবাদিকদের জানান রাজু’র বিয়ে ও সন্তান কোনভাবেই মেনে নিব না। সুইটি ও তার শিশু সন্তানকে ত্যাগ না করা পর্যন্ত রাজুকে বাড়িতেও জায়গা দিব না। সুইটি খাতুন পরবর্তিতে আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছে।


