সাহাবায়ে কেরামের যুগে দূরবর্তী অঞ্চলের চাঁদের খবর পাওয়ার কথা চিন্তাই করা যেত না; কিন্তু সাহাবাদের যুগেই ঘটনাচক্রে সংঘটিত হয়েছে এমন একটি ঘটনার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা সম্ভব। বিশিষ্ট তাবেয়ি কুরাইব (রহ.) গিয়েছিলেন দামেস্কে। দামেস্ক মদিনা থেকে প্রায় এক হাজার ৯২৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখানে শুক্রবার রাতে রমজানের চাঁদ দেখা যায়।
শুক্রবার থেকে রোজা শুরু হয়। কুরাইব (রহ.) রমজান মাসের শেষের দিকে মদিনায় পৌঁছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে অব্বাস (রা.) কুরাইব (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ?’ কুরাইব (রহ.) বলেন, ‘শুক্রবার রাতে।’ ইবনে আব্বাস (রা.) জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি নিজেই দেখেছ?’ তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমিও দেখেছি, অন্যরাও দেখেছে। সবাই রোজা রেখেছে।
আমিরুল মুমিনিন মুয়াবিয়া (রা.)ও রোজা রেখেছেন।’ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘কিন্তু আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি। সুতরাং আমরা আমাদের হিসাবমতো ৩০ রোজা পুরা করব, তবে যদি ২৯ তারিখ দিবাগত রাতে চাঁদ দেখি, সেটা ভিন্ন বিষয়।’ কুরাইব (রহ.) জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কি মুয়াবিয়া (রা.)-এর চাঁদ দেখা ও রোজা রাখাকে যথেষ্ট মনে করেন না?’ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘না, রাসুল (সা.) আমাদের এমন আদেশই করেছেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ১০৮৭)
এখানে লক্ষণীয় যে স্থান পরিবর্তন হওয়ার কারণে কুরাইব (রহ.)-এর মতো একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির সাক্ষ্য থাকার পরও সিরিয়ায় দেখা চাঁদের ওপর ইবনে আব্বাস (রা.) আমল করেননি। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘রাসুল (সা.) আমাদের এ আদেশই করেছেন।’ আর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ ছিল, ‘স্থানীয়ভাবে চাঁদ না দেখে রোজা ও ইফতার নয়’—এই মূলনীতির অনুসরণ করা।
সুতরাং ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মাজহাব হলো, রোজা ও ঈদ পালনের জন্য নিজ নিজ এলাকায় উদিত চাঁদের ওপর নির্ভর করা। এ বিষয়ে অন্য কোনো সাহাবি তাঁর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার প্রমাণও খুঁজে পাওয়া যায় না।



