বিনোদন ডেস্ক : এবারের নির্বাচনে মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল করে নির্বাচন করেন। অন্যদিকে মৌসুমী স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে দাঁড়ান, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন খলনায়ক মিশা সওদাগর। আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত মিশার কাছে বিপুল ব্যবধানে হেরে যান মৌসুমী।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে এবার ছিল ইতিহাস সৃষ্টির হাতছানি। কারণ এ নির্বাচনে প্রথমবার সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন কোনো অভিনেত্রী। তিনি জননন্দিত চিত্রনায়িকা মৌসুমী। জিতলেই তৈরি হতো নতুন ইতিহাস। শিল্পী সমিতির যাত্রা শুরুর পর প্রথমবার সমিতি পেত নারী নেতৃত্ব। কিন্তু হলো না!
শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি জানান, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২০২১ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে মিশা সওদাগর-জায়েদ খানের পুরো প্যানেলই জয়ী হয়েছে। ভোটার ছিলেন শিল্পী সমিতির ৪৪৯ জন সদস্য। এর মধ্যে ৩৮৬টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে বৈধ ব্যালট ৩৫৭। বাতিল হয়েছে ২৯ ব্যালট। সভাপতি পদে মিশা সওদাগর ভোট পেয়েছেন ২২৭ আর মৌসুমী পেয়েছেন ১২৫ ভোট। অর্থাৎ ১০২ ভোটে মিশার কাছে হেরেছেন মৌসুমী।
স্ত্রী মৌসুমী নির্বাচনে হারের পর নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। লেখেন, ‘আসলেই চলচ্চিত্র মরে গেছে, না মরলে এগুলি হওয়ার কথা না।’ ফলাফল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন তাঁর বক্তব্যে বলেন, জয়-পরাজয় পরের বিষয়, শিল্পী সমিতির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সভাপতি পদে অংশ নিলেন, এটাই অনেক বড় ব্যাপার।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ, চলে বিকেল ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। নির্বাচনকে ঘিরে এফডিসিতে শুক্রবার সারাদিন নবীন-প্রবীণ শিল্পীদের মিলনমেলা দেখা যায়। নায়ক ফারুক, সোহেল রানা, কাজী হায়াৎ, রোজিনা, আলীরাজ, রিয়াজ, ফেরদৌস, শাকিব খান, পপি, অনন্ত জলিল, বর্ষাসহ অনেকেই যান এফডিসিতে। ফল ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় মিশা সওদাগর এনটিভি অনলাইনকে বলেছেন, ‘মৌসুমীকে সঙ্গে নিয়ে শিল্পী সমিতি পরিচালনা করতে চাই।’


