এম এম নুর আলম, আশাশুনি : আশাশুনি উপজেলায় প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও চলমান কঠোর লকডাউন এর দিন যতই পার হচ্ছে ততই সড়ক ও হাট বাজার গুলোতে বাড়ছে জনসমাগম। মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি। খোলা রয়েছে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
রবিবার বিভিন্নস্থানে ঘুরে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও মোড়ে মোড়ে সাধারণ মানুষের ভিড় দেখাগেছে। দেখে মনে হয়েছে লকডাউন এ ঘরে থাকার কথা থাকলেও কিছু অসচেতন জনগন বেশী বেশী বাহিরে বেরিয়ে হাট-বাজার ও মোড়ে মোড়ে আড্ডা দিয়ে উৎসব মূখর পরিবেশে লকডাউন পালন করেছেন। এছাড়াও অধিকাংশই হাট-বাজার গুলোতে দোকান-পাট খোলা ছিল আগের নিয়মেই। তবে স্থানীয় রুটে কোন বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যওয়ার জন্য ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইঞ্জিন ভ্যান ও মোটরসাইকেল এর দখলে ছিল রাস্তাঘাট।
এসময় অধিকাংশ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও মাক্স পরিধানে অনীহা দেখাগেছে। এদিকে, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আশাশুনি থানা পুলিশের সদস্যরা ব্যারিগেড দিয়ে সড়কে চেকপোষ্ট বসিয়ে কাজ করেছে। আনসার ভিডিপি সদস্যরাও একই সাথে মাঠে নেমে কাজ করেছে। উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করেছেন।
এসময় যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচাল রোধ, অন্যান্য বাহনের অহেতুক চলাচাল নিয়ন্ত্রণ, খুবই প্রয়োজন ব্যতীত মানুষের বাইরে বের হওয়া রোধ এবং দোকান পাট খোলা রাখার ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে তৎপরতা চালান হয়। বিধিনিষেধ অমান্যের জন্য কাউকে গ্রেফতার বা জরিমানা করার খবর পাওয়া যায়নি। এরপরও বিভিন্ন বাজারে বা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নির্দেশ অমান্য করে দোকান খুলে রাখা, মানুষের চলাচল বা আড্ডা দেওয়ার ঘটনা চোখে পড়েছে। প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি ও কঠোরতার ভয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি থাকলেও সাধরণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহার না করতে দেখা গেছে। বিকালেও দোকান পাট ও চা স্টল খুলতে দেখা গেছে।
প্রশাসন ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিকালে টহল থাকলেও গাড়ির শব্দ শোনার সাথে সাথে দোকানের শার্টার/দরজা বন্দ করে দিয়ে গাড়ি চলে যাওয়ার পরপরই দোকান পুনরায় খুলতে দেখাগেছে। এব্যাপারে প্রশাসনের পাশাপাশি স্ব-স্ব এলাকার জন প্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ, বাজার কমিটির কাজে লাগানো যায় কিনা ভেবে দেখতে সচেতন মহল অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়াও লকডাউন চলাকালে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা আরও বৃদ্ধির দাবী জানিয়েছেন।


