কিংবদন্তি নির্মাতা, অভিনেতা ও লেখক আমজাদ হোসেনের মরদেহে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন সংগঠনের মানুষ ফুল দিয়ে তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দ্র মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দিন ইউসুফ ও গাজী মাজহারুল আনোয়ারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পরে আমজাদ হোসেনের ছেলে সোহেল আরমান বলেন, বাবার চিকিৎসা ও তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করায় আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ। আজ এখানে আসার পর বুঝেছি আমার বাবাকে দেশের মানুষ কতটা ভালোবাসেন। তার কর্মজীবন সার্থক।
শ্রদ্ধা জানানো শেষে আমজাদ হোসেনের মরদেহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যনেল এটিএন বাংলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বিএফডিসিতে নেওয়া হবে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা শেষে চ্যানেল আই ভবন প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হবে।
এর আগে গত ১৮ নভেম্বর স্ট্রোকে আক্রান্ত হন আমজাদ হোসেন। পরে তেজগাঁওয়ের একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। লাইফ সাপোর্টে থাককালে ২০ নভেম্বর তার দুই ছেলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। প্রধানমন্ত্রী সে সময় আমজাদ হোসেনের চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন। ২৮ নভেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে গত ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে গুণী এই মানুষটি চলে যান না ফেরার দেশে।
৭৬ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব নানা ধরনের কাজের জন্য সমাদৃত। একাধারে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা, গীতিকার ও সাহিত্যিক।
১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ একাধিক রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।



