হরিণাকুন্ডুতে সাড়া জাগিয়েছে লালন শাহ গণ গ্রন্থাগার!

17
হরিণাকুন্ডুতে সাড়া জাগিয়েছে লালন শাহ গণ গ্রন্থাগার!

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর হাতিয়ার হচ্ছে বই পড়া। কথায় আছে যে পড়ে সেই বড়। বই পড়লে কেও ছোট থাকেন না। জ্ঞানের সম্পদ মানুষের মননশীলতাকে বৃদ্ধি করে। আর এই গ্রন্থের অন্যতম ভান্ডার হলো লাইব্রেরি। হরিণাকুন্ডু উপজেলা শহরের চিথিলিয়াপাড়ায় গড়ে উঠেছে এমন একটি লাইব্রেরি। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে ২০১৫ সালে প্রশান্ত কুমার শর্মা রামে এক যুবক নিজ উদ্দ্যেগে ভাড়া করা ভবনে প্রতিষ্ঠা করেন লালন শাহ গণ গ্রন্থাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হরিণাকুন্ডুর মানুষের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন, নৈমিত্তিক জীবনের জন্য তথ্যের যোগানদান এবং মননশীলতা চর্চার সুযোগ সৃষ্টির এক বিশাল সুযোগে পরিণত হয়। প্রায় ৯০০ (নয়শত) বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট গ্রন্থাগারটিতে রয়েছে মনোরম পরিবেশে পড়াশুনার সুযোগ।

লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার শর্মা জানান, বাংলাদেশের প্রকৃত নাগরিক যে কেউ গ্রন্থাগারের সদস্য হতে পারবেন। সদস্য হওয়ার জন্য আগ্রহী ব্যক্তিকে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে সদস্য ফরম সংগ্রহ করে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি বাৎসরিক সদস্য ফিস বাবদ নগদ ১০০/- টাকা (অফেরতযোগ্য) এবং জামানত হিসাবে নগদ ১০০/- টাকা (ফেরতযোগ্য) মোট দুই’শ টাকা প্রদান করতে হবে। আগ্রহী ব্যক্তিকে তার জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধনের সত্যায়িত ফটোকপি আবেদন ফরমের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। লাইব্রেরিয়ান জবা মজুমদার জানান, প্রতিবছর সদস্যতা নবায়ন করতে হবে নতুবা সদস্যতা বাতিল বলে গণ্য হবে। হরিণাকুন্ডুর সর্বস্তরের জনসাধারনের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত এই লাইব্রেরি। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত সবাই গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারবেন। তবে কেবলমাত্র বৈধ সদস্যবৃন্দ গ্রন্থাগার থেকে বই সংগ্রহ করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে প্রতি সদস্য ১টি বই সর্বোচ্চ ১৫ দিনের জন্য ধার নিতে পারবেন। ১৫ দিনের বেশি সময় বইটি প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই বইটি নবায়ন করতে হবে। অন্যান্য সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে ফটোকপি সেবা। তবে এক্ষেত্রে চার্জ প্রদান করতে হবে। পত্রিকা পড়ার জন্য রয়েছে আলাদা পত্রিকা পাঠ কক্ষ। এছাড়াও রেফারেন্স সেবার জন্য রয়েছে আলাদা রেফারেন্স সেকশন।

গ্রন্থাগার উপজেলার বাইরের বিভিন্ন পঠন-পাঠনসামগ্রী যেমন-বই, সাময়িকী, পত্রিকা, গেজেট, অডিও ও ভিডিও সিডিসহ ইত্যাদিতে সমৃদ্ধশালী। এখানে বসে পাঠকবৃন্দ খুব সহজেই দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন সাহিত্য অঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবে। বর্তমানে গ্রন্থাগারে সংগ্রহে রয়েছে ১২০০ বই, ০৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা (বাংলা ও ইংরেজি)।

এ ছাড়াও গ্রন্থাগারটি তিনটি স্বনামধন্য আস্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ‘দি ইকোনোমিস্ট, ‘টাইম’ এবং ‘রিডার’স ডাইজেস্ট’ ও একটি দেশীয় ম্যাগাজিন (অনন্যা) নিয়মিত সংগহ করে থাকে। গ্রন্থাগারটি রবিবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। সরকারের আর্থিক সহায়তা পেলে লাইব্রেরিটি একটি মডেল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে পাঠকরা মন্তব্য করেছেন।