সর্বশেষ সংবাদ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান  এস,এম শওকত হোসেন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আসন্ন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান সাতক্ষীরা সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের দীর্ঘদিনের  সভাপতি আলহাজ্ব এস,এম শওকত হোসেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করে মাঠে নেমেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে ধারাবাহিক ভাবে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব এস,এম শওকত হোসেন জন্মগত ভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান। তিনি ১৯৫৫ সালের ১ই আগস্ট সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অতিক্রম করে তুজুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এস,এস,সি এবং কলারোয়া কলেজ ‡_‡K এইচ,এস,সি ও বি.এ পাশ করেন। ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত কলারোয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ছাত্ররাজনীতির শেষে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১সাল পর্যন্ত সোনালি ব্যাংকে চাকরী করেন। কিন্তু রাজনীতির জন্যই চাকরী ছেড়ে দিয়ে রাজনীতির পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন ব্যবসায়।

ছাত্রলীগ থেকে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ১৯৮৩ সালে। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের পরিচয় দেন তিনি। তার সৎ আদর্শপরায়ণতা, কর্মোঠত্বগুণ নেতৃত্বের কারনে  ১৯৮৮ সালে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িক্ত পালন করেন ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এবং একই সাল থেকে অদ্যাবধি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

১৯৯১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তার দক্ষ নেতৃত্বে সর্বস্তরের দলীয় নেতাকর্মীদের ভালোবাসা অর্জন করে সর্বপ্রথম উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ২০০৩ সালের ২৪শে ডিসেম্বর এবং ২০০৩ সালের ২৪শে ডিসেম্বর থেকে অদ্যাবধি দুই মেয়াদে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন দক্ষতার সাথে।

মূলধারার আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে ১৯৮৮ থেকে অদ্যাবধি সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং একই সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে সুদীর্ঘ ৩১বছর সদর উপজেলার অন্তগত ১৪টি ইউনিয়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন আহবায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও সর্বশেষ সভাপতি হিসেবে দক্ষতার সাথে দল পরিচালনা করে যাচ্ছেন তিনি।

সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বপ্রথম দলীয় মনোনয়ন চান তিনি। তবে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। পরবর্তীতে পরপর তিনবার (২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪)  জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর-২ আসন থেকে দল ও ঐক্যের স্বার্থে  দলীয় মনোনয়ন চাননি।

সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা সদর-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও মনোনয়ন লাভ থেকে বঞ্চিত হোন। মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েও আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর বিজয় অর্জনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তিনি।

তবে ২০০৯ সালে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দাখিল করে প্রচারণা করলেও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম দলের স্বার্থে সাতক্ষীরা সদর-২ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার ফলে তার সম্মানে তিনি (এস,এম শওকত) হোসেন দলের বৃহত্তর স্বার্থে চেয়ারম্যান প্রার্থী থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করে এক অন্যন্য  নজির স্থাপন করেন এবং নির্বাচনে নিকটতম প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তার জনসমর্থনের কথাও প্রমাণ করেন তিনি।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হোন। তবে আসন্ন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে পুনরায় দলীয় মনোনয়নের জন্যে নিজেকে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন তিনি।

তিনি তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্বৈরশাসন বিরোধী আন্দোলন, জোট সরকারের লুট, গুম, হত্যা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যেকোন আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এসময় তিনি জোট সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনী ও পুলিশের লাঠিচার্জে একাধিকবার গুরুত্বরভাবে জখম হন।

২০১৪ সালে সমগ্র দেশব্যাপি জামাত-শিবির ও বি.এন.পির সন্ত্রাসী বাহিনী যে  হত্যাযজ্ঞ কার্যক্রম পরিচালনা করে সাধারণ জনগণ ও আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের উপর, তাদের সকল কার্যক্রম রুখে দিতে রাজপথের সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এতে করে জামাত- শিবির ও বি.এন.পির সন্ত্রাসীবাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে তার গ্রামের বসতবাড়ি কয়েকবার ভাংচুর এবং  পরবর্তীতে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে থাকলেও কোন স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে।

কোন স্বজনপ্রীতি না করে তিনি তার অধিকাংশ স্বজনদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে না এনে সাধারণ কার্যনির্বাহী সদস্য ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রেখে দিয়েও এক অন্যন্য নজির স্থাপন করেছেন। তবে দক্ষতার বলে নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছেন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীদের।

তার এরুপ নেতৃত্বে, দলের প্রতি তার কর্মোঠত্ব ও দলের দূঃসময়ে সাধারণ জনগণের পাশে থেকে তাদের অধিকার আদায় করে দেওয়ার নেতৃত্বে মূখ্য ভূমিকা পালন করায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সহ পাশ্ববর্তী অঞ্চলের সাধারণ জনগণের মাঝে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।

এবিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আলহাজ্ব এস,এম শওকত হোসেন বলেন, দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের চাওয়া পাওয়ার ভিত্তিতে আমি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করতে আগ্রহী। আশাকরি জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলীয় প্রার্থী  হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে আসার সুযোগ করে দিবেন। নির্বাচনে জয় লাভ করলে সাতক্ষীরাকে মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলাকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে তৈরী করে সাতক্ষীরা বাসীকে উপহার দিবো।

error: লাল সবুজের কথা !!