সাতক্ষীরা জেলায় উৎপাদিত কুচিয়া ১৫ দেশে রপ্তানি হচ্ছে: আশাশুনিতে কাজ করে যাচ্ছে উন্নয়ন সংস্থা

75

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাদা সোনা খ্যাত রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি সাতক্ষীরা জেলায় চাষ হয়ে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে চিংড়ি রপ্তানির পাশাপাশি উপকুলীয় এলাকায় উৎপাদিত কুচিয়া বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জে বেশ কয়েকটি মোটাতাজাকরণ কুচিয়া খামার গড়ে উঠেছে।এর মধ্যে আশাশুনিতে উৎপাদনের মাত্রা বেশি।

প্রাকৃতিকভাবে জন্মনো এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে মোটাতাজা করার পর থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরসহ ১৫টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে চাইনায় এর চাহিদা বেশি।

তবে খামারীরা বলছেন, সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার কুচিয়া রপ্তানি।
আশাশুনির উপজেলার শব্দলপুর গ্রামের নিতাই সরকার বলেন, স্থানীয় বেসরকারী সংস্থা উন্নয়ন থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে কুচিয়া মোটাতাজা করেন। গত পাঁচ বছর যাবত নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন কুচিয়া মোটাতাকাকরন খামার। তার খামারে ছোট বড় কয়েক হাজার কুচিয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস ঘের থেকে এসব কুচিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনে তা খামারে পরিচর্জা করেন। ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের কুচিয়া সংগ্রহ করে দুই থেকে আড়াই মাস পরিচর্জা করার পর তা একেকটি কুচিয়ার ওজন হয় ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত। এরপর স্থানীয়ভাবে প্রতি কেজি কুচিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।
তিনি আরো জানান, বছরের বারো মাসই কুচিয়া মোটাতাজা করেন। এতে তার খামার ও অন্যান্য খরচ তুলে প্রতি মাসে ৮থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হয়। তবে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে উপকূলীয় এলাকার কুচিয়া রপ্তানিতে আরো সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের উজিরপুর গ্রামের আব্দুল বারী গাজী বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস্য ঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে খামারে মোটাতাজা করছেন। এসময় কুচিয়ার জন্য তারা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন কেঁচো, ছোট তেলাপিয়া মাছ ও চিংড়ি মাছ।

এদিকে আশাশুনি এলাকার গৃহবধু ফুলজান বিবি ও ছন্দা রানী জানান, তারা সংসারের কাজকর্ম করেও প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার করে আয় হচ্ছে কুচিয়ার খামার থেকে।

উন্নয়ন সংস্থা নামে খুলনা ভিত্তিক একটি এনজিও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলাতে কুচিয়া মোটাতাজাকরণে খামারীদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহযোগিতা করছে।সংস্থার অাশাশুনি ও শোভনালী শাখায় লিফট কর্মসূচির অাওতায় এসকল কাজ করা হয় বলে জানা গেছে।অাশাশুনির কোদন্ডা,শব্দলপুর,বলাবাড়িয়া, হাঁসখালি,শোভনালি সহ অন্যান্য জায়গায় সদস্যদের মাধ্যমে উন্নয়ন সংস্থা কুচিয়া চাষ করছে।

উন্নয়ন সংস্থার আশাশুনি উপজেলার দায়িত্বে থাকা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর রেজা বলেন, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউণ্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহায়তায় লিফট কর্মসূচির আওতায় আশাশুনিতে প্রায় ২০০টি কুচিয়া মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে তোলা হয়েছে।
এই এলাকার বিভিন্ন মৎস্য ঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করা হয়। এসব খামারে পরিচর্জা করার পর তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি আরো বলেন, ঢাকার উত্তরা এলাকার কিছু রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম, ও সিঙ্গাপুরসহ প্রায় ১৫টি দেশে রপ্তানি করছে।

এবিষয়ে উন্নয়ন সংস্থার ফোকাল পারসন মোঃ তারিকুর রহমান বলেন,আমরা কুচিয়া চাষের মাধ্যমে চাষিদের ভাগ্য বদলে কাজ করে যাচ্ছি। অন্যদিকে বাইরে যাতে বেশি রপ্তানী করা যায় সে লক্ষে চাষের প্রসর বাড়াচ্ছি।অামরা বিভিন্ন সময় কুচিয়া চাষের উপর প্রশিক্ষণ দিয়ে চাষিদেরকে অনুদান সহ স্বল্পসুদে ঋণ দিয়ে চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি করছি।এতে করে তারা নিজেরা সাবলম্বী হচ্ছে,অন্যদিকে বাহিরে কুচিয়া মাছের বাজার সৃষ্টি হচ্ছে।তিনি অারো বলেন,আমরা পরবর্তীতে কুচিয়া চাষের উপর আরো বড় বড় প্রকল্প হাতে নেবো।তাতে করে এ এলাকায় কুচিয়া মাছের বড় বাজার তৈরি হবে বলে অাশা করছি।

আশাশুনি উপজেলার উজিরপুর বাজারের পাইকারী কুচিয়া ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আসিফ এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মো. আব্দুস সালাম বলেন, খামারীদের কাছ থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে তা ঢাকার উত্তরা এলাকার কয়েকটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন পর্যন্ত কুচিয়া উত্তরায় সরবরাহ করেন তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, শ্যামনগরে সরকারিভাবে কুচিয়ার দুটি প্রদর্শনী খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। চিংড়ি ও কাকড়ার পরই কুচিয়া রপ্তানিতে সাতক্ষীরা বেশ সম্ভাবনাময়। তিনি আরো বলেন, গত অর্থ বছরে কাকড়া মোটাতাজাকরণ একটি প্রকল্প সাতক্ষীরাতে ছিলো। সেটি গত জুনে শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীতে কুচিয়া চাষের উপর প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।