শেখ মফিজুর রহমান
আমি আজ তােমাকে মুক্ত করে দিলাম!
কথা দিচ্ছি তােমাকে আয়েশা নামের
কোন মেয়েই আর কখনাে বিরক্ত করবে না।
তুমি রাত-দিন চিন্তা করবে না
কেন এই মেয়ের সাথে বিয়ে হলাে।
বিযের পবিত্র বন্ধন তােমার
আর কখনাে শৃঙ্খল মনে হবে না।
তােমাকে আজ মুক্ত করে দিলাম।
বিয়ের পর থেকে তুমি শুধুই
আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য চেয়েছাে
আমাকে দিয়ে লাভবান হতে চেয়েছাে।
তুমি, তােমার পরিবার সবাই মিলে
আমাকে মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে
কষ্টের উপর কষ্ট দিয়েছাে।
অভিমানী মন আমার মেনে নেয় নি
তােমাদের এই নিগ্রহ নির্যাতন।
তাই তাে বিদ্রোহী হযেছি,
আইনের আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।
কিন্তু সত্যি বলতে কি জানাে
কোথাও কোন শান্তি পাই নি।
আজ আমি বড় ক্লান্ত
আমি আর শান্তির খোঁজে ছুটতে চাই না।
ধীরে বয়ে চলা সবরমতী নদীর বুকে
চির শান্তির ঘুম দিতে চাই।
তােমার ভালােবাসা চেয়েছিলাম
লড়তে চাই নি, তাই
তােমাকে মুক্ত করে দিলাম
বাবা, কি আর হবে মামলা করে?
সবার কপালে কি ভালােবাসা জোটে?
আমাকে নিয়ে ভেব না,
মনে করাে আমার জীবনের পরিসমাপ্তি
এখানেই, নদীর শান্ত সমাধিতে।
একটা কথা রাখবে, বাবা?
পারলে মামলাটা তুলে নিয়াে।
যাকে হৃদয়ের বন্ধনে বাঁধতে পারি নি
কি হবে তাকে আইনের বাঁধনে বেঁধে?
মাযের সাথে কি আর কথা বলবাে?
তাঁকে বলাে আল্লাহর সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি
দোয়া করতে বলাে নিরন্তর।
আজ আমার মন বাতাসের মত হাল্কা
পৃথিবীর সব বন্ধন হতে
নিজেকে মুক্ত করে
অন্যকে মুক্তি দিয়ে
স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছি বহু দূরে
সত্যি বলছি, কোন আফসােস নেই
বিদায় পৃথিবী, বিদায় অধরা ভালােবাসা
সবরমতী নদী আমার
বিনা দ্বিধায় গ্রহণ করাে আমায়….
কবিতাটা লিখেছি সুদূর ভারতের
আহমেদাবাদের আয়েশা বানুকে নিয়ে।
মনের কষ্টে যে সবরমতী নদীর বুকে
শেষ আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে।
আত্নহনন কোন সমাধান নয় জানি
কিন্তু এই মেয়েটির সাবলীলতা
আর তার বন্ধন হতে জীবনসঙ্গীকে
মুক্ত করে দেয়ার যে অদম্য প্রয়াস
ব্যক্ত করেছে সে বারংবার,
তা মুগ্ধ করেছে আমায়।
ভালােবেসে বাঁধতে পারে পুরুষ
কিন্তু মুক্ত করতে পারে- শুধুই
নারী হৃদয়।
পন্থা হিসেবে আত্মহত্যা
সর্বাবস্থায় পরিত্যাজ্য
কিন্তু মৃত্যুর মুখে দাঁড়িযে এই
সাহসী উচ্চারণ এটাও কি
প্রবাহমান জীবনধারার প্রতি
বিদ্রোহ নয়? অঙ্গুলি নিক্ষেপ কি করে না
তথাকথিত সমাজ ব্যবস্থার প্রতি?
সম্পর্কের অসারতার প্রতি?
প্রশ্ন থাকলাে আমার;
জীবনের টানা পােড়নে জ্বলতে থাকা
কোন আয়েশাকে পেলে উত্তরটা দিয়ে দেবেন…
(বি.দ্রঃ একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে…।
সূত্রঃ- ভারতের গুজরাটের সবরমতী নদীতে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে আত্মহত্যার আগে আয়েশা বানুর নিজে করা ভিডিও ফুটেজ )
লেখক : শেখ মফিজুর রহমান, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, সাতক্ষীরা।


