আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুর পৌর এলাকায় আদালতের চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটিমহল বিরোধীয় জমির দখল নিতে জমির মালিক ব্যবসায়ী মোসলেম মোল্যাকে মারপিট করে গুরুতর আহত করেছে। এছাড়া তার রোপণকৃত আমন ধান ক্ষেত নষ্ট করে প্রায় ৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মোসলেম মোল্যার স্ত্রী হামিদা বেগম কেশবপুর প্রেসক্লাবে হাজির হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি জানান, পৌরসভাধীন আলতাপোল গ্রামের মৃত বরকতউল্লাহ ১৯৬২ সালে আলতাপোল মৌজার সাবেক ৮৯১ ও ১০৮৮ দাগের ৩০ শতক জমির মধ্যে ১৯ শতক জমি বিক্রি করে মৃত আবেজান বিবির কাছে। অবশিষ্ট ১১ শতক জমি বরকতউল্লাহর ওয়ারেশ মৃত খোশজান বিবি ও মৃত জয়গুন বিবির নামে সমান অংশে দানপত্র দলিল করে দেয়। সেই সুবাদে ওই জমির হাল রেকর্ড হয় তাদের নামে। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে জয়গুন তার অংশ খোশজানের নামে দানপত্র দলিল করে দেয়। খোশজানের মৃত্যুর পর ওই জমির মালিক হন তার ওয়ারেশ মোসলেমউদ্দীন ও শাখেরা খাতুন। এরমধ্যে শাখেরা খাতুন তার অংশ ভাই মোসলেমউদ্দীনের নামে দানপত্র দলিল করে দেয়। ২০১৪ সালে ওই জমির নামপত্তন হয় আমার স্বামী মোসলেমউদ্দীনের নামে। সেই থেকে আমার স্বামী ওই জমি দখল করে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে আসছেন। তিনি আরও বনে, বিবাদিপক্ষ একই গ্রামের মৃত হাসেম বিশ্বাসের ছেলে আলমগীর হোসেন, বুলু বিশ্বাস, ইকবাল হোসেনসহ ৭/৮ জন সন্ত্রাসী বিভিন্ন সময়ে ওই জমি তাদের দাবি করে আমার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক আদালতে মামলা করে হয়রানি করে আসছে। এরপরও তারা জমি দখলের চেষ্টা করলে গত ২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী আমার স্বামী মোসলেমউদ্দীন আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা করেন। যার নং- পি-২৪০। এসব মামলার রায় ও থানা পুলিশের ১৪৪ ধারার প্রতিবেদন আমার স্বামীর পক্ষে যায়। এতেও তারা ক্ষান্ত— না হয়ে জমি দখলের চেষ্টা করলে আদালত ওই জমিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যার নং- ৬৬/১১। প্রভাবশালী বিবাদি পক্ষ আদালতে হেরে গিয়ে বর্তমান পূর্বশত্রুতার বশবতী হয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আমার স্বামীর ওই জমি জোর পূর্বক জবর দখলে নেয়ার পায়তারাসহ জমিতে আমার রোপণ করা বিভিন্ন ফসল ক্ষয়ক্ষতি করে আসছে। হামিদা বেগম সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর (রবিবার) দুপুরে আমার স্বামী ওই বিরোধীয় জমিতে চাষাবাদ শেষে ধান রোপণ কাজ সম্পন্ন করেন। কিছুক্ষণ পর বুলু বিশ্বাসের হুকুমে উক্ত বিবাদিগণ আমার স্বামীর রোপণকৃত ধান নষ্ট করে প্রায় ৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। খবর পেয়ে আমার স্বামী বাধা দিতে গেলে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে কিল, ঘুষি মেরে সমস্ত শরীর ফুলা জখম করে। আমার স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমান আমার পরিবার প্রতিপক্ষের হুমকিতে বাড়ি থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছে না। তারা জোর পূর্বক জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।



