শীর্ষস্থান থেকে দূষণে ১৮তম শহর ঢাকা

68

বায়ুদূষণের দিক থেকে দুদিন বেশ সুবিধাজনক স্থানে ছিল ঢাকা। শুষ্ক মৌসুম এলে এই মেগাসিটি বিশ্বে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষ স্থান দখল করে নেয়। দিনের পর দিন চলে এমন অবস্থা। 

কিন্তু সর্বশেষ বুধবার দূষণে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৮তম। এর আগের দিনও একই ধরনের অবস্থানে ছিল। 

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুদূষণ সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দানকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকার বায়ুমানের হঠাৎ এই উন্নতি কেন? বিশেষ এমন কী ঘটেছে যে শীর্ষ দশটি দূষিত শহরের তালিকায়ও নেই!

এ প্রশ্নের উত্তর জানতে যুগান্তর কথা বলে বাতাসের ওপর ধারাবাহিক গবেষণারত স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপস) পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে। 

তিনি বলেন, মূল কারণ দুটি। প্রথমত, রাজপথে গাড়ির ব্যবহার কমে যাওয়া এবং বাতাসের গতি। মঙ্গল ও বুধবার রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল। যানজটসহ অন্যান্য কারণে রাস্তায় ব্যক্তিগত যানবাহন একেবারেই কমে গেছে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সংখ্যাও অনেক কম। ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমেছে। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে, ঢাকার রাস্তার ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী যদি সড়কে যানবাহন কম থাকে ধূলিকণা কম সৃষ্টি হয়। 

এছাড়া ঢাকায় বুধবার বাতাসের গতি ছিল ১৮ থেকে ২৫ কিলোমিটার ঘণ্টায়। বাতাসের প্রবাহ বেশি থাকলে ধুলাবালি উড়ে যায়। ফলে বাতাস ভালো থাকে।

বেসরকারি সংস্থা ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের এক গবেষণায় দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে শীতকালে ঢাকার বাতাস ১৬ গুণ বেশি দূষিত থাকে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্মল বায়ুর মানমাত্রার চেয়ে খারাপ থাকে বছরের ৩১৭ দিন। মাঝে মধ্যে এটা ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে চলে যায়। 

বায়ু পরিমাপের সূচকে প্রতি ঘনমিটারে ধূলিকণাসহ অন্যান্য গ্যাসীয়দূষণ ৬৫ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত অনুমোদিত। অর্থাৎ এই পরিমাণ দূষণ থাকলে সেই বায়ু শরীরের জন্য তেমন ক্ষতিকর নয়। 

আইকিউ এয়ারের বুধবারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ২৩৫ পয়েন্ট নিয়ে দূষণের এক নম্বর শহর ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাকিস্তানের লাহোর ও চীনের হংঝু। ১৯৬.৭ পয়েন্ট নিয়ে ১৮তম স্থানে ছিল ঢাকা।

প্রসঙ্গত, ঢাকার বাতাসে ‘বস্তুকণা ২.৫ নামের অতি সূক্ষ্ম পদার্থ স্বাভাবিকের চেয়েও ৫ গুণ বেশি থাকে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসে। এছাড়া বায়ুদূষণে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজ প্রধান ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে নির্মাণ খাত ও ইটভাটা অন্যতম। 

এছাড়া রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, কলকারখানা থেকে নিঃসরিত বিভিন্ন ধরনের কার্বন, শুষ্ক মৌসুমের কারণে সৃষ্ট ধুলাবালি, ময়লা-আবর্জনাসহ বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া, ফিটনেসবিহীন গাড়ির কালো ধোঁয়া ইত্যাদি অন্যতম। এজন্যই ঢাকার বাতাস এত দূষিত।