রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় কেশবপুরে মজিদপুর কওমী মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ পুলিশের

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর কওমী মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ। এ বিষয়ে কেশবপুর থানার উপ পরিদর্শক নাজমুল হুসাইন স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ শনিবার মাদ্রাসার প্রিন্সিপ্যালের নিকট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নোটিশে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের একটি পত্রের সূত্র উল্লেখ করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে।

মজিদপুর ইউপি সদস্য ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারী আব্দুল আহাদ জানান, ১৯৮০ সালে গ্রামবাসির প্রচেষ্টায় জামি‘আ মাদানিয়া মজিদপুর কওয়ামী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে হেফজখানা ও এতিমখানা চালু করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আলতাপোল গ্রামের মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিমের দায়িত্ব পালনকালে এলাকাবাসিকে পাশ কাটিয়ে নিজের ইচ্ছামত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে গ্রামবাসির কাছে ওই মুহতামিমের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা ধরা পড়েন। ফলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারী মাদ্রাসার শুরা কমিটির এক জরুরী সভায় ৪০টি অনিয়ম ও অর্থ আতœসাতের অভিযোগে তাঁর অপসারণ দাবি করে এলাকাবাসি। তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মজিদপুর জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা আব্দুল বারীকে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে গত ২৬ ফেব্রুয়ারী ওই মোহতামিমের বিরুদ্ধে ৪ লাখ ৬৬ হাজার ৩২৩ টাকা আতœসাতের একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ সময় মুহতামিম মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গা ঢাকা দেন। পরবর্তীতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে গ্রামবাসির সাথে এ বিষয়ে সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মনিরামপুরের মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস ও কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলামের একাধিক বৈঠক হয়। তারা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দিয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করে যান। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনে মাওলানা রাজ্জাক প্রতিষ্ঠানে না এসে মঙ্গলকোটের মাওলানা হাবিবুল্লাহকে দিয়ে মাদ্রাসার চাবি পাঠিয়ে দেন। এরপর মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ইয়াছিন আলীকে ভারপ্রাপ্ত মোহতামিমের দায়িত্ব দিয়ে পাঠদান ও পরিচালনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে মাওলানা রাজ্জাক মাদ্রাসার আলতাপোল ও দোরমুটিয়া গ্রামের জমি বিক্রি করে দিয়ে টাকা আতœসাৎ করেছেন বলে জানা যায়। ফলে যশোর আদালতে তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আতœসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মজিদপুরের সাবেক ইউপি সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ বলেন, মাদ্রাসাটিতে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী হাফিজিয়া ও কওমী বিষয়ে লেখাপড়া করে। এলাকাবাসি তাদের লেখাপড়া ও খাওয়া দাওয়ার সব ব্যবস্থা করে থাকেন। বর্তমান মাদ্রাসাটি সুন্দর ভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোন উত্তেজনা বা সংঘর্ষের আশংকা নেই। এ ব্যাপারে এলাকাবাসির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার উপ পরিদর্শক নাজমুল হুসাইন বলেন, কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান গত ২ অক্টোবর স্মারক নং ০৫.৪৪.৪১৩৮.০০০.০৯.০৪৭.২০১৮-১২৬১ পত্রে মজিদপুর কওমী মাদ্রাসার সকল কার্যক্রম সাময়িক ভাবে বন্ধ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য থানার অফিসার ইনচার্জকে অনুরোধ করেছেন। ফলে অফিসার ইনচার্জ দ্বারা আদিষ্ঠ হয়ে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।