যশোরে ধান ফসলে গলমাছির প্রাদুর্ভাব, দিশেহারা কৃষক

33
যশোর

মাসুম বিল্লাহ, সদর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরে ধান ফসলে নলিমাছি বা গলমাছির প্রাদুর্ভাব!! দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক।আমন ধান রোপনের পর বড় কয়েকটি ধাপ, যেমন (সার ছিটানো, আগাছা দমন,পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ইত্যাদি) অতিক্রম করেছেন কৃষকেরা। কিন্তু কাইছ থোড় আসার মুহুর্তে গল মাছির আক্রমন ক্ষতির কারন হিসাবে দাড়িয়েছে কৃষকের। যশোর সদরের ১৫ টি ইউনিয়নে এ পোকার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যশোর বাঘারপাড়া’র দরাজহাট ইউনিয়নের, জুহর কুড়ি, দহাকুলা ইনিয়নের সোনা হওলার বিল,সহ অনেক যায়গায় গলমাছির আক্রমন দেখাগেছে।তবে বিশেষ করে ধান উৎপাদনে বিক্ষাত যশোর সদরের ইছালী ইউনিয়নে এ গল মাছি পোকার আক্রমন বেশি হয়েছে।বড়ভাঙ্গাড়, পুয়াতের বিল,বিরের বাড়ি,গোলা ভাঙ্গার বিল,জ্বলেস্বার,ঘুরুলিয়ার পচা পাওড় হাশিমপুর মাঠ,রাজাপুর মাঠ,হরিনারবিল,সরজমিন ঘুরে গলমাছিপোকার আক্রমনের সত্যতার প্রমান মিলেছে। পল্লী বন্ধু হুসাইন মোহাম্মাদ এরশাদ সরকারের আমলে ঘোষিত ইছালী পাইলাট ইস্কিম মাঠে ঘুরে ঘুরে দেখাগেল গলমাছির আক্রমন। গলমাছি দেখতে অনেকটা মশার মত স্ত্রী গল মাছির পেট উজ্জল লাল রং এর হয়।এ মাছির ক্রীড়া ধানগাছের বাড়ন্ত কুশিকে আক্রমণ করে এবং আক্রান্ত কুশি পেয়াজ পাতার মতো হয়ে যায়।সেই সাথে কুশি থেকে আর শিষ বের হয় না।ইছালী কৃষক মোঃজনাব আলীর ৩ বিঘা জমিতে গলমাছির আক্রমনে ধানগাছ পেয়াজ গাছের পাতার আকার ধারন করেছে।এ ব্যাপারে ইছালীর তরুণ কৃষক মোঃ এমদাদ শিকদার আমাদের প্রতিনিধিদের বলেন,নলিমাছি নামক এক প্রকার পোকা আমাদের ধান ফসলের গাছ গুলোকে পেয়াজ গাছের পাতার মত করে ফেলছে। অনেক ফসল অনিষ্ট করছে।শুধু আমি নয় আমাদের মাঠে অনেক কৃষকের শত শত বিঘা জমিতে এ সমস্যা হয়েছে। কিন্তুু কৃষি অফিসের কোন কৃষি কর্মক’তার আগমন ঘটেনি এ মাঠে।এমদাদের মত অনেকেই একই অভিযোগ করেছেন।
l এব্যাপারে যশোর সদর উপজেলার কৃষি অফিসের উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার( ইউ এ ও) জনাব সৌতম কুমার শীল আমাদের সদর (যশোর) প্রতিনিধিকে বলেন এ গল মাছি দমনের জন্য কৃষক সাধারন ভাবে
রোপনের পর নিয়মিত জমি পর্যাবেক্ষন করতে হবে।
আলোর ফাঁদ ব্যবহার করতে পারে।জমিতে পার্চিং করতে হবে।জমিতে শতকরা ৫ ভাগ পেয়াজ পাতা দেখা গেলে অনুমদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
তবে আক্রমনের মাত্রা বেশি দেখাগেলে ডায়াজনিন গ্রুপের কীটনাশক পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে।কৃষি অফিসের কোন কর্মী মাঠে নেই।এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন কৃষি অফিসের কোন কর্মী মাঠে নেই এমন প্রশ্ন ভিত্তিহিন।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সব সময় কৃষকের সেবা দিয়ে আসছে।ভুক্তভুগী কৃষকদের তিনি ইউনিয়ন কৃষি তথ্য সেবা কেন্দ্রে পরামর্শ নিতে যাওয়ার অনুরোধ জানান।যশোরের সকল মাঠ থেকে গলমাছি নিপাত যাক পুষ্ট ধানে ভরে উঠুক কৃষকের গোলা এমনটিই প্রত্যাশা সকলের।