মান্দায় পাটের দামে কৃষকের মুখে হাঁসি

63

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় সোনালী আঁশের দিন ফিরে আসতে শুরু করেছে। এবার লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম বেশি হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুঁটেছে হাঁসির ঝিলিক।

শষ্য ভান্ডার খ্যাত নওগাঁর মান্দা উপজেলায় উৎপাদিত পাট রপ্তানি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। কৃষি প্রধান এ দেশে এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট চাষে কৃষক দুরাবস্থার সম্মুখীন হলেও চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সময় মত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট কেটে তা বিভিন্ন জলাশয়ে জাগ দিচ্ছে কৃষকেরা। চাষিরা পাট কেটে নদী, নালা, খাল, বিল ও ডোবায় জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং হাটে বাজারে তা বিক্রিসহ সব মিলিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে নারী-পুরুষের অংশ গ্রহণে পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। অনেক স্থানে কৃষক খরচ বাঁচাতে রিবোন রেটিং পদ্ধতিতে আঁশ ছাড়ানোর জন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করলেও কৃষকরা তাতে আগ্রহ নয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম থাকায় অনেক স্থানে চাষ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন হওয়া ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকেরা খুশি হয়েছে।

মান্দা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ভালো মানের পাটের মূল্য ২৩’শ টাকা মণ ও নি¤œ মানের পাটের মূল্য ১৮’শ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে। ফলে ন্যায্য মূল্য পেয়ে পাট চাষীদের মাঝে এখন পাট চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

মৈনম ইউপির দূর্গাপুর গ্রামের কৃষক মাজেদুর রহমান ওরফে মাজু হাজী জানান, এবার প্রায় ১ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। পাটের ফলন ভালো হয়েছে এবং অন্য বছরের তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় অনেক খুশি।

গনেশপুর গ্রামের কৃষক ইব্রাহীম বাবুসহ অনেকে জানান, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় পাট নিয়ে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে পড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ফলন ও ভালো হয়েছে। এবার আমরা বেশ কিছু জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। বাজারে পাটের মূল্য বেশি হওয়ার কারণে আগামি বছর আরো বেশি জমিতে পাট চাষ করবো বলে আমরা মনে করছি।

মান্দার সতিহাটে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাট কিনতে আসা পাটের বেপারীরা জানান, তারা তাদের বাপ দাদার আমল থেকে পাটের ব্যবসা করে আসছেন। তারা নিয়মিত সতিহাট থেকে পাট কিনে থাকেন। প্রতি হাটে তারা পাট কিনে থাকেন। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দর কিছুটা বাড়তি। এবার পাটের দর মানভেদে ২ হাজার থেকে ২৩শ টাকা পর্যন্ত।

মান্দা উপজেলার একাধিক বøকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের এলাকায় পাটের আবাদ লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। সেইসাথে পাটের ফলন ও দাম অনেক বেশি। আগামীতে অত্র এলাকার কৃষকরা যাতে পাট যথাযথভাবে উৎপাদন করতে পারে এবং স্বল্প খরচে উচ্চ ফলনশীল পাট উৎপাদন করতে পারে এ জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কৃষকদের নিকট গিয়ে পরামর্শ প্রদান করছি। বিভিন্ন রোগবালাই থেকে পাটকে মুক্ত রাখতেও পরিমিত পরিমান ঔষধ প্রয়োগের পরামর্শ দিয়ে আসছি।

এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, গত বছরের চেয়ে এ বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। পাটের ফলন ভালো হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম ও অনেক বেশি। পাটের নায্য মূল্য পেলে চাষিদের মাঝে পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।