মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় অন্যের জমি জরিপ এবং সংবাদ প্রকাশের জেরে মান্দা উপজেলার গনেশপুর ইউপি’র গনেশপুর গ্রামের মৃত জহির উদ্দীনের ছেলে সৈয়দ আলী (৫৫), মৃত লছের উদ্দীনের ছেলে পিন্টু (৩৫), মফিজ উদ্দীনের ছেলে আসলাম (৩০), বাবলুর ছেলে সোহেল (৩৮), আছির উদ্দীনের ছেলে লবির উদ্দীন (৫২), মৈনম ইউপি’র দূর্গাপুর গ্রামের জালালের ছেলে কামরুজ্জামান এবং মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউপি’র গোপালকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আকবর মন্ডলের পুত্র সাংবাদিক সেতু (৩০),সহ ৭ জনকে ফৌ:কা:বি: আইনের ১০৭/ ১০৪ ধারা মতে ২৫৭ মিস/ ২০১৯ (মান্দা) মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের পুত্র আলহাজ্ব মজিবর রহমানের ছেলে আব্দুল্যা আল মামুন এবং জামাই আমিনুরের কবলাকৃত সম্পত্তি নিয়ে গনেশপুর ইউনিয়নের গনেশপুর গ্রামের বিরাজ উদ্দিন শেখের পুত্র বেলালের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো । বর্তমানে ওই বিবাদমান জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে।
এরই প্রেক্ষিতে মান্দা থানায় এবং স্থানীয়ভাবে দফায়-দফায় মিটিং হয়েছে। কিন্তু ওইসব মিটিং-এ উভয়পক্ষের লোকজনের কিছুটা গাফলতিতে মিথ্যা মামলা দায়েরের সুযোগ পায়। মামলায় অভিযুক্তরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেই সাথে তারা সকলে মিথ্যা মামলায় আসামী করায় মামলার বাদীকে ধিক্কার জানান।
উল্লেখ্য, জমি জবর দখল করার কারনে সম্প্রতি “নওগাঁর মান্দায় জমি জবর দখলের অভিযোগ” এবং “নওগাঁর মান্দায় ভূয়া দলিল বের করে অন্যের সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ!” শিরোনামে একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা সকলেই অবগত আছে। এমতাবস্থায় বিবাদমান জমির তদন্তকারী কর্মকর্তা মান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) রফিক উভয়পক্ষকে একদিন থানায় ডেকে বসেন এবং ওইদিনের মিটিংয়ে কাগজপত্র দেখে জমি মাফজোকের সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক এসআই রফিক বিবাদমান জমিটি জরিপ করার জন্য মোবাইল ফোনে সাংবাদিক এবং সার্ভেয়ার মো: মাহবুবুজ্জামান সেতুকে বিষয়টি জানান।
একটা নির্দিষ্ট দিন ধার্য্য করে বিবাদমান জমিটি জরিপ করার জন্য সার্ভেয়ারসহ স্থানীয় মাতবররা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। কিন্তু ওই দিন বেলাল তার নিজ বাড়িতে ছিলেন না।অথচ, জমি মাপজোকের পর বেলাল বাড়িতে এসে অন্যের প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এবং নিজের ভুল সিদ্ধান্তে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে উৎসাহী হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে যাদের সাথে জমি নিয়ে দ্বদ্ব তাদেরকে মামলার আসামী না করে সাংবাদিক এবং সার্ভেয়ার মাহবুবুজ্জামান সেতুসহ অন্যান্যদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার ঘৃন্য মন মানষিকতার কারনে এমন ন্যাক্কারজক কাজ করেছে বেলাল । যার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া দরকার বলে দাবি করেন বিবাদীরা।
মামলার ৭ নং বিবাদী মাহবুবুজ্জামান সেতু বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে সাংবাদিকতা এবং সার্ভেয়ার পেশায় সুনামের সহিত কাজ করে আসতেছি। বর্তমানে আমি একাধিক প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় কর্মরত আছি। সেইসাথে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে কাজ করে যাচ্ছি। জমি মাপজোক এবং ওই জমি নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ করায় ইর্শ্বানীত্ব হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা। আমি এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।
মিথ্যা মামলা দায়েরের কারন সম্পর্কে জানতে চাইলে মামলার বাদী বেলাল জানায়, মামলা করছি তাতে কি হইছে? কিজন্যে মামলা করছি সেডা তোমরা জানেন না? মামলা করার কারনে কি তোমরা পানিত পরা গেচিন? মোবাইলে এসব কথা হবে না একসময় সামনা সামনি দেখা করার কথা জানায় বেলাল। তার কথা হচ্ছে যে, ওইদিন আমরা কেনো সেখানে জমির মিটিংয়ে উপস্থিত হলাম এবং জমি মাপজোক করলাম। এটা ছিলো না কি আমাদের বড় অপরাধ! সেকারনে ও আমাদেরকে মামলায় বিবাদী করেছে। সে আরো জানায় যে, পুলিশ যদি আমাদেরকে কারো বাড়িতে আগুন লাগাতে বলে তাহলে কি আমরা সেটাই করবো? মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় এমন নানান মনগড়া প্রশ্ন করে বসে বেলাল।



