মো. মামুন হোসেন : নগরঘাটা ইউনিয়নের প্রাক্তন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুর আলী সরদার। বাড়ি তালা উপজেলার ২ নম্বর নগরঘাটা ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামে । ১৯৭১ সালে এপ্রিল মাসের ১৬ তারিখে ভারতের বসিরহাট যে আকাশবাণী ক্যাম্পে নাম দেন সেখান থেকে তকিপুর ক্যাম্পে চলে যান এবং ট্রেনিংয়ের জন্য ১৭ দিন পরে বিহারের উদ্দেশে রওনা হন সেখান থেকে এক মাস ১৭ দিন ট্রেনিং নেন, রাইফেল এস এল আর এস এম জি এল এম জি রকেট লঞ্চার এন্টি পার্সোনাল টুইচ মর্টার ও থ্রিস মর্টার । ট্রেনিং শেষে কল্যাণী ফিরে হাতিয়ার নেন সেখান থেকে হাতিয়া নিয়ে হাকিমপুর ফিরে আসেন ।
এরপর ভোমরা, কাকডাঙ্গা, বালিয়াডাঙ্গা, মাধবকাটি ও দমদম ব্রিজ বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেন । উল্লেখযোগ্য যুদ্ধের স্থান বালিয়াডাঙ্গা । বালিয়াডাঙ্গা যুদ্ধে সঙ্গী হিসেবে ছিলেন তোফায়েল আহমেদ , সেলিম দারোগা, দিলীপ আমতলার কাদের রাজনগরের সামসুর, কালাম ও কলারোয়ার মোসলেম সহ আরো অনেকে ছিলেন । সেখান থেকে তোফায়েল আহমেদসহ সুবেদার আমানুল্লাহ কে ধরে নিয়ে যায় রাজাকার বাহিনী সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করতে না পারলেও দেশ স্বাধীনের পরে তাদেরকে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয় । বালিয়াডাঙ্গা যুদ্ধ চলে তিন দিন ।যুদ্ধকালীন সময়ে সেখানে কতজন মুক্তিযোদ্ধা মারা গিয়েছিলেন সেই সঠিক তথ্য তিনি দিতে পারেননি । তবে সেখান থেকে খানদের পাকড়াও করেন মুক্তিযোদ্ধারা । বালিয়াডাঙ্গা যুদ্ধ এমনই ছিল যে যুদ্ধশেষে পাকিস্তানি বাহিনী দের লাশ ট্রাক ভরে ভরে তাদের নিয়ে যেতে দেখেছে অনেক যুদ্ধ সহ আশপাশের এলাকা বাসি। বাকি লাশগুলো মুক্তিযোদ্ধারা সোনাই নদীতে ভাসিয়ে দিত।
১৪৫ জন এর সদস্য নিয়ে ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে প্রথম যুদ্ধ শুরু করেন ভোমরা স্থলবন্দরে সেখানে দুই দিন যুদ্ধ শেষে ২২ জন মুক্তিযোদ্ধা ফিরে আসেন বাকি ১২৩ জন শহীদ হন ।
তারপর সাতকানিয়া-বাঁশখালী সেলিম দারোগার সাথে গ্রুপ করে যুদ্ধ শুরু করেন গ্রুপে ছিলেন নোয়াখালীর মন্টু নাজমুল সাতক্ষীরা পলাশপোলের মিজান বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ এই গ্রুপের সবাই বাস ঘাটার মরে বিদ্যুৎ সংযোগ ও টেলিফোন লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন সেখানে শহীদ হন নারায়ণ গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা সাদেক। সেখানেই গুরুতর আহত হয়ে নিজের পুরুষাঙ্গ হারান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজান ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুর আলী সরদার বলেন সাতক্ষীরা আমতলার কাদের ও আমি মিজানকে তলুইগাছা রয়েল বিশ্বাসের বাড়িতে নিয়ে যায় সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে পাঠায় ।
হাজার ১৯৭১ সালের ৫ই ডিসেম্বর সোমবার রাত দশটা কপিলমুনি বাজারে রাজাকার বাহিনীর আস্তানায় হানা দেন । ৬ তারিখ সাতক্ষীরার কলারোয়া হানাদার মুক্ত হয় ৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা দশটায় রাজাকার বাহিনী কপিলমুনি থেকে আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে সেখানে রাজাকারের সংখ্যা ছিল ১২৬ জন । ক্যাপটেন শফিকুল্লাহ মনিরামপুরে যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশ দেন রূবসপুর, ডুমুর খালি যুদ্ধকালীন সময়ে সাতক্ষীরা তালতলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাত্তারের ভুলবশত কারণে মর্টারের গুলিতে ৬ জন নিহত হন আর ওজলপুর রাজাকার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন আরো চারজন ইপিআর ।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন দেখতে চান জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তার উত্তরে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে বর্তমান বাংলাদেশ উন্নয়নের যে ধারা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যাচ্ছে সেরকমই আরও সামনে এগিয়ে যাক সেই প্রত্যাশায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নুর আলী সর্দারের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ দেখতে চাওয়া। তিনি বলেন বর্তমান বাংলাদেশ আগের তুলনায় এখন অনেক উন্নত এভাবেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ এমনটি তিনি আশা করেন।



