ভিডিও ফুটেজে মিন্নির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

111

দেশের খবর : বরগুনার বহুল আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের নতুন একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। এ ভিডিওতে নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন অনেকে। ভিডিওতে দেখা যায় রিফাতকে যখন হত্যাকারীরা ধরে নিয়ে যাচ্ছে মিন্নি ‘স্বাভাবিকভাবে’ হেঁটে যাচ্ছে। পেছন থেকে পাওয়া এ ভিডিওতে মিন্নির মুখের মনোভঙ্গি যদিও স্পষ্ট নয়।

এদিকে ভিডিও প্রকাশের পর এ হত্যা মামলার এক নম্বর সাক্ষী মিন্নি যে কোনো সময় পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। হত্যার পর দিন থেকে মিন্নির বাবার বাসায় তিনজন করে পুলিশি প্রহরা থাকলেও গত শনিবার থেকে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যা। বর্তমানে ১০ জন পুলিশ সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। মিন্নি বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

নতুন ভিডিওচিত্র নিয়ে মিন্নি বলেন, স্বামী হত্যার শুরুর দিকে আমি ভাবতেই পারিনি কী ঘটতে যাচ্ছে। তাই স্বাভাবিক ছিলাম। কিন্তু যখন রিফাতকে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করল, আমি তাকে বাঁচাতে ছুটে যাই। খুনিদের নিরস্ত করার চেষ্টা করি। যদিও আমার কথা কেউ শোনেনি।

মিন্নি আরও বলেন, নয়ন বন্ড ক্রসফায়ারে মারা গেছে। এতে আমি খুশি। তবে তাকে জীবিত রাখা গেলে জড়িত অন্য আসামিদের তথ্যও জানা যেত। গত শনিবার বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে। ভিডিওটি ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের। ফুটেজটির ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে দেখা যায়- নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ ১০-১২ জন রিফাতকে মারধর করতে করতে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বের হচ্ছে। এদের মধ্যে একজন পেছন থেকে রিফাতকে ধরে রেখেছে। বাকি দুজন দুই হাত ধরেছে। ৫ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ফুটেজে মিন্নিকে দেখা যায়, তার বাম হাতে একটি পার্স ছিল। তিনি পার্স হাতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন। ডান পাশে কলেজের দিকে তাকিয়েছেন একবার।

ভিডিওর ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে নয়নের সঙ্গীরা রিফাতের মাথায় হাত দিয়ে আঘাত করার সময়ও মিন্নি স্বাভাবিক ছিলেন। ৫ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে অন্যরা একসঙ্গে রিফাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে প্রথমবারের মতো দৌড়ে যান তিনি। চেষ্টা করেন প্রতিরোধের। এ সময় দা বের করে কোপাতে শুরু করে নয়ন বন্ড ও তার বাহিনী। পেছন থেকে প্রতিরোধের চেষ্টা করতে দেখা যায় মিন্নিকে। হত্যাকাণ্ডের পর নয়নরা পালিয়ে গেলে একজন মিন্নিকে তার পার্সটি মাটি থেকে হাতে তুলে দেন। এ সময় মিন্নি স্বাভাবিকভাবে সামনের দিকে হাঁটা শুরু করেন। ঘটনার ৮ মিনিট পর একটি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের দুজন কর্মকর্তা।

অনেকেই বলছেন, এ ভিডিওর মাধ্যমে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি পরিষ্কার। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পোপন তথ্য বের হবে। জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত স্বচ্ছ ও সাবলীল করতে যা যা প্রয়োজন তাই করা হবে। মিন্নি এ মামলার একজন সাক্ষী, তদন্তের স্বার্থে তার সঙ্গে কথা বলা হবে।

রিফাত ও মিন্নি উভয়ের বাসায় রয়েছে পুলিশি প্রহরা। সটান দাঁড়িয়ে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। পুলিশ জানায়, মিন্নি এ মামলার প্রধান সাক্ষী। তার নিরাপত্তার জন্য বাড়ির বাইরে পুলিশ রাখা হয়েছে।

গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় রিফাতকে। তার স্ত্রী মিন্নি হামলাকারীদের বাধা দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারেননি। গুরুতর অবস্থায় বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেদিন বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রিফাতের। এ ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

ঘটনার পরদিন থেকে রিফাতের স্ত্রী মিন্নি ও তার সাবেক বন্ধু নয়ন বন্ডকে নিয়ে ফেসবুক পোস্টে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন অনেকেই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেই এ হত্যাকাণ্ডের জন্য মিন্নিকে দায়ী করেন। এর পর গত মঙ্গলবার রাতে বরগুনার পুরাকাটা এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে মামলার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড নিহত হন। পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হয়েছে জড়িত আরও কয়েকজন আসামিকে।

এ মামলার অগ্রগতি বিষয়ে যখন দেশ-বিদেশের মানুষ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন এ সময় প্রকাশ হলো নতুন ভিডিও। এ ভিডিওতে মিন্নির ভূমিকাকে অনেকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করলেও কেউ কেউ স্বাভাবিক মনে করছেন।

হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষের মত তুলে ধরলে মিন্নি খোলা কাগজের কাছে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। মিন্নি বলেন, স্বামী হারিয়ে আমি এমনিতেই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। এ অবস্থায় সবার কাছে মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করছি। আমার কোনো কিছুই গোপন নেই। সব কিছুরই তো সাক্ষী-প্রমাণ আছে।

ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন