বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইফতার মাহফিল নলতা শরীফেঃ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

তরিকুল ইসলাম লাভলুঃ পবিত্র কাবা শরীফের পরই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা দরবার শরীফে। পবিত্র রমজানের এক মাস ধরে এই বৃহত্তর ইফতার মাহফিলের পূর্ব প্রস্তুতি চলতে থাকে। ৩০ জন শ্রমিক দিন রাত পরিশ্রম করে বাঁশ-খঁটি আর টিন দিয়ে তৈরি করা হয় বিশাল ছাউনি যেখানে একসাথে ৬ হাজার রোজাদার মুসল্লী ইফতার করতে পারেন। এছাড়া এখানে ইফতারি বিলি-বন্টন ও তদারকির জন্য রয়েছে ২ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।

অবিভক্ত বাংলার শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক,পীর-এ কামেল বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মোজাদ্দেদ,অবিভক্ত বাংলা ও আসামের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক,বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক,প্রখ্যত সাহিত্যিক,সমাজ সেবক,আত্মাধিক সাধক,সমাজ সংস্কারক,জ্ঞান তাপস,মুসলিম রেনেঁসার অগ্রদুত,মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনার অধিকারী,মনোচিকিৎসক, ঐতিহাসিক,দার্শনিক,‘‘স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা” ব্রত নিয়ে চলা নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের প্রতিষ্ঠাতা সুলতানুল আউলিয়া,কুতুবুল আকতাব,গওছে জামান,আরেফ বিলাহ,হজরত শাহ্ ছুফী আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.) এঁর নলতা পাক রওজা শরীফে প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার মুসল্লী রওজা শরীফ প্রাঙ্গনে এই বিশাল ছাউনির নিচে বসে একত্রে ইফতার করেন।

আর বাকী ৪ হাজার মানুষের ইফতার এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মিশন ও বাড়িতে বাড়িতে প্রেরণ করা হয়। এখানে ফকির, মিসকিন,গরীব,ধনীসহ সব শ্রেনীর মানুষ সকল ভেদাভেদ ভুলে প্রতিদিন অংশ গ্রহণ করেন এই ইফতার মাহফিলে। সাওয়াব হাসিলের জন্য দূর-দূরন্ত থেকেও ইফতারের উদ্দেশ্য রোজাদাররা ছুটে আসেন নলতা রওজা শরীফ প্রাঙ্গনে।

তথ্যানুসারে জানা যায়, ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর রমজানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নলতা শরীফ রওজা চত্বরে বিশাল ছাউনি নির্মান করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রমজান মাসব্যাপী এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন হজরত শাহ্ ছুফী আলহাজ্জ খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.)। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পরও মিশন কর্তৃপক্ষ এ ইফতার মাহফিলকে অব্যাহত রেখেছে।

নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের ব্যবস্থাপনায় ও নলতা শরীফের খাদেম আলহাজ¦ আনছার উদ্দিন আহমদের বিশেষ তত্বাবধানে এই বিশাল ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বর্তমান এই ইফতার মাহফিলের পরিধি বেড়ে এখন ১০ হাজারে উর্দ্ধে পৌঁছেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবী, বিশ্বে এটিই ইফতারের সর্ববৃহৎ আয়োজন।

বাবুর্চী বাবু হোসেন জানান, রোজাদারদের জন্য এখানে প্রতিদিন ৬ শত কেজি দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় ফিরনি, সিদ্ধ করা হয় ১০ হাজার ডিম, ছোলা ভুনা, কলা, খেজুর, সিঙাড়া, ও চিড়ার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন প্রতি বছরে আমি এখানে রান্নার কাজ করি। এ মাসটিতে আমরা রোজাদারদের খেদমতের কাজ করি। এখানে সকাল থেকেই দৈনিক ইফতারের পূর্ব প্রস্তুতি চলতে থাকে।

শুধু তাই নয়, মহান সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ লাভে নলতা দরবারের শাহী জামে মসজিদে ইতেকাফে বসেন ৫৫০ থেকে ৬০০ জন ধর্মপ্রাণ মুসল্লী। যাদের খাওয়া দাওয়া ও ইফতারের ব্যবস্থাও এখানে করা হয়। দরবার এলাকায় অবস্থিত নলতা শরীফ শাহী জামে মসজিদে প্রতিদিন তারাবীতে অংশ নেন দুই হাজারেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লী।

নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের হিসাব রক্ষক এবাদুল হক বলেন, প্রতিবছর রমজানে ইফতার, তারাবী ও ইতেকাফ উপলক্ষ্যে নলতা রওজা শরীফে সাড়ে ৬ লক্ষাধীক টাকা ব্যায়ে বাঁশ-খঁটি দিয়ে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়। আর প্রতিদিন ইফতারিতে খরচ গড়ে ২ লক্ষ৫৫ হাজার টাকা। দিনে দিনে এর ব্যাপ্তি আরও বাড়ছে।

নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সদস্য মো. মালেকুজ্জামান জানান, ক্রমান্বয়ে এর পরিধি বেড়েই চলেছে। নতুন মসজিদটা নির্মান হয়ে গেলে এখানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসার স্থান হবে। বর্তমান অস্থায়ীভাবে টিন ও বাঁশ দিয়ে ছাউনি তৈরি করা হয়েছে। এখানকার সকল কর্মকর্তাদের ইচ্ছা কেউ যেন এখান থেকে খালি মুখে ফিরে না যায়। কেউ যেন কস্ট না পায়। এটিই আমার দাদু মুর্শিদ মাওলা হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রহ.) এঁর চাওয়া।

error: লাল সবুজের কথা !!