ফ্রান্স কর্তৃক মহানবী (সাঃ)কে অবমাননা! আসুন সোচ্চার কন্ঠে করি তীব্র প্রতিবাদ

236
মোঃ আব্দুর রহমান

মোঃ আব্দুর রহমান: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন আমাদের মুসলিম উম্মাহর শেষ নবী এবং রাসুল। যার দেখানো পথেই আমরা মুসলিম জাতি সঠিক পথের দিশা পাই। যিনি তৎকালীন অন্ধকারে আচ্ছাদিত আরবের মানুষগুলোকে আলোর পথে এনেছিলেন। যিনি নারীজাতিকে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রথা- তথা জীবন্ত কবর দেওয়া থেকে রক্ষা করে একটি সুন্দর সুশৃঙ্খল জাতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

যার চরিত্র সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তিনি হলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন রহমাতুল্লীল আলামীন বা মানবজাতির জন্য আল্লাহর রহমতস্বরুপ, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। আর এমন একজন মহৎ মানুষকে নিয়ে ফ্রান্সের খ্রিষ্টরাজ্য প্রতিষ্ঠার অগ্রনায়কেরা বিশ্বে যে অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করেছে সেটাকে আধুনিক যুগের সর্বোচ্চ বর্বরোচিত ও ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড বলে বিবেচিত হয়।

বর্তমান বিশ্বে মুসলিমরাই বেশী নির্যাতিত ও নিপীড়িত। বর্তমান বিশ্বে যারা মোড়ল গোষ্ঠী তথা বিশ্ব নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে তার বেশীরভাগই ইহুদী-খ্রিষ্টান; ফ্রান্স দেশটিও সেই মোড়ল গোষ্ঠীর দেশ। বর্তমান বিশ্বে বেশীরভাগ দেশই গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি করলেও সবাই ইসলামের অবমাননাকে মজা হিসেবেই দেখেন। ফ্রান্স বরাবরই গণতান্ত্রিক দাবি করলেও ইতঃপূর্বে তারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে বা মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি বা অবমাননার জন্য কোন কঠোর পদক্ষেপ তো নেয়নি বরং সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামকে আরো বেশী হেয় প্রতিপন্ন করেছে। একটা গণতান্ত্রিক দেশের প্রেসিডেন্টের জাতিসংঘে গিয়ে দেওয়া বক্তব্য একটি সাম্প্রদায়িকতার পক্ষ অবলম্বনেই কাজ করেছে যা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে নিচুমানের ও ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড হিসেবে পরিলক্ষিত হয়৷

ইসলামকে বা মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে অবমাননা যারাই করেছে, তারাই অভিশপ্ত হয়েছে; তারাই নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের নিম্ন আস্তাকুড়ে। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে, তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ সে তার বাবা, মা, ভাই, বোন তথা তার পরিবারের সবার চেয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে ভালবাসবে। মহানবী ( সাঃ) এর ভালবাসায় সিক্ত হয়ে সারাবিশ্বের মুসলিম জাতি প্রতিবাদ করছে। আমাদের দেশের অনেক মুসলিম এটা নিয়ে প্রতিবাদ করছে।

কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত কিছু কুলাঙ্গার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রতিবাদকে হেয় করছে। প্রত্যেক জাতির কাছে তার ধর্মের মূল্য রয়েছে। যখন কারো ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করা হয় তখন সে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। হাদিসে আছে – তোমাদের মধ্যে যখন কোন অন্যায় কাজ দেখবে সেটা হাত দিয়ে প্রতিহত করবে, যদি এমন সামর্থ্য না থাকে তাহলে মুখের দ্বারা প্রতিহত করবে, যদি এমন সামর্থ্যও না থাকে তাহলে অন্তরে ঘৃণা করবে; আর এটাই হলো ইমানের শেষ স্তর। হাদিসের বক্তব্য অনুযায়ী আমাদেরকে এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কন্ঠে প্রতিবাদ করে মুসলমানের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তথা ঈমান বাঁচানো এখন সময়ের দাবী৷

এমতাবস্থায়, সারাবিশ্বের মুসলিমদের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে মহানবী( সাঃ) কে নিয়ে যারা এমন ব্যঙ্গাত্মক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে তাদের কঠোর শাস্তির দাবীতে এবং এমন হীন কাজের জন্য ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদে অগ্রসর হয়ে ফ্রান্সের পণ্য বয়কট করা এখন সময়ের দাবী, যাতে তারা এমন জঘন্য সাম্প্রদায়িকতামূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে করার সাহস না পায়।

শিক্ষার্থী: ইংরেজি ভাষা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।