পীরগঞ্জে হলুদ তরমুজে কৃষকের হাসি

সবুজ আহম্মেদ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : মাচা পদ্ধতিতে হলুদ জাতের তরমুজ সামমাম চাষ করে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার রনশিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের কয়েকজন কৃষকের পরিবারে হাসি ফুটেছে। অসময়ে এ তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক চমক দিয়েছেন তারা।

স্বল্প সময়ে অত্যন্ত লাভজনক নতুন জাতের এ ফসলের চাষ আগামীতে আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাাশ করেছেন কৃষি বিভাগ। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে তরমুজ চাষ করা হয়। কিন্তু উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের রনশিয়া পশ্চিমপাড়ায় ৬ বিঘা জমিতে এবারই প্রথম অসময়ে হলুদ রঙের তরমুজ সামমাম চাষ হয়েছে। উজ্জল হোসেন, সহেদ আলী ও মনতাজুর নামে তিন কৃষক মাচা পদ্ধতিতে এ ফসলের চাষ করেছেন। প্রায় দুই মাস আগে তারা এ ফসল লাগান।

এখন তাদের খেতের মাচায় ঝুলছে দুই থেকে চার কেজি ওজনের হলুদ রঙের হাজারো তরমুজ। চলতি সপ্তাহেই ঢাকায় পাঠানো হবে ওই সব তরমুজ। চাষি উজ্জল হোসেন জানান, ময়মনসিংহ এলাকায় হলুদ রঙের তরমুজের চাষের খবর শুনে তারা সেখান থেকে বীজ সংগ্রহ করে ৬ বিঘা জমিতে এবার পরীক্ষামূলক আবাদ করেছেন। এতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। বেশ ভালো ফল এসেছে। নতুন জাতের এ ফসল প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় কৃষক দেখতে আসছেন। এখন এ জাতের তরমুজের দামও ভালো। বর্তমানে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এই তরমুজ। এরই মধ্যে ঢাকার পার্টি এসে ক্ষেত দেখে গেছেন। আট থেকে ৯ লাখ টাকায় খেতেই তরমুজ কিনে নিতে চাইছেন তারা। যোগাযোগ চলছে, চলতি সপ্তাহেই ঢাকার পার্টি এসে তরমুজ নিয়ে যাবেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম গোলাম সারওয়ার বলেন, অসময়ে সামমাম বা হলুদ রঙের তরমুজ চাষ এ অঞ্চলে এটাই প্রথম। সাধারণ তরমুজের চেয়ে এর স্বাদ অনেক ভালো, মিষ্টিও অনেক বেশি। সাধারণত ৬০ দিনেই এ ফসল বাজারজাত করা যায়। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান আর অবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ ফসলের আবাদ ভালো হয়েছে। বেশ লাভবান হবেন তারা। আগামীতে এ উপজেলায় ওই জাতের তরমুজের আবাদ বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

error: লাল সবুজের কথা !!