মোঃ নয়ন হোসাইন, (পীরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁয়ে চরম শীত পরেছে এবার। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও বিশেষ করে গ্রাম গুলোতে শীতের তীব্রতা বেড়েছে অনেক গুণ। এতে চরম দূর্ভোগে পরেছে অসহায় শীতার্ত পরিবার গুলি। এছাড়াও আদিকাল থেকে বসবাস করে আসা পীরগঞ্জের বেশ কিছু আদিবাসী পরিবার- বস্ত্র ও খাদ্যহীনতায় ভুগছে এসময়।
কোথাও কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় আদিবাসী শিশু ও বৃদ্ধাদের চরম কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে এখানে। শীতে একটু উষ্ণতার জন্য তাদের কাছে পর্যাপ্ত বস্ত্র না থাকায় কনকনে শীতের রাতে ঘুমাতেও পারছেনা তারা। রাতে ঘুমাতে না পেরে দিনের বেলা উঠানে খড় বিছিয়ে সূর্যের তাপনিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছে আদিবাসী এই মানুষগুলি। কোনো কোনো দিন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো না থাকায় কষ্ট যেন দ্বীগুনেরও বেশী হয়ে যায় এখানে। শিশুদের দিকে তাকালে বোঝা যায় জীবন কতটা নির্মম তাদের জন্য। বস্ত্র ও খাদ্যহীনতায় তাদের কষ্ট চরম থেকে চমর শিখরে পৌঁচেছে। শীতের এ সময় তেমন কোনো কাজ না পাওয়া এসব দিনমজুর ও অসহায় আদিবাসী পরিবার গুলোর দিকে তাকানোর কেউ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- পীরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব-পাড়িয়া গ্রামের আদিবাসী পরিবার গুলির শীতে বেহাল দশা। বস্ত্র ও খাদ্যহীনতায় ভুগে ভুগে অনেকে অসুস্থ্য হয়ে পরেছে। আদিবাসী শিশু, মা ও বেশকিছু পরিবার তাদের দুঃখ দুর্দশার কথা আমাদের বলেন- তারা শীতের এমন মূহুর্ত্যে খুব কষ্টে জীবন পার করছেন। এসময় কাজ না পাওয়ায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ গুলি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বিপাকে পরেছেন।
একজন আদিবাসীকে দেখা যায় ছেঁড়া শাড়ি দিয়ে কাঁথা শেলাতে তিনি বলেন, আমার ২ টি ছেলে ১ টি মেয়ে শীতে খুব কষ্টে আছে তাই কাঁথা শেলাচ্ছি। আমাদের কেউ কোনো সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি। শুনেছি সরকার নাকি আমাদের জন্য কম্বল দিয়ে থাকে আমরা তো এখানো কিছু পেলাম না। লক্ষীমুনি নামের এক আদিবাসী মেয়ে জানায়, আমরা এই শীতে কাঁপছি আমাদের জন্য কেউ ভাবে না খুব কষ্টে আছি। তাদেরকে কোনো কম্বল বা লেপ কেউ দিয়েছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, না আমাদের পূর্ব পাড়িয়ার আদিবাসী গ্রামে কেউ কোনো কম্বল বা লেপ পায়নি। কাউকে কিছু বলতে গেলে কেউ আমাদের মুল্যায়ন করে না।
উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটেয়ে বসবাস করা এসব আদিবাসীরা ছাড়াও উপজেলার মছলন্দপুর গ্রামের কিছু অসহায় হিন্দু পরিবার বলছেন এখানে রাতের বেলা বেশী শীত পরার কারণে খুব কষ্ট হচ্ছে তাদের।
এদিকে সমাজের অন্য ব্যাক্তিরা বলছেন সরকার এমন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী ও অসহায় শীতার্তদের জন্য অনেক কিছু পাঠাচ্ছেন কিন্তু তা এসব মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। যাদের এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তারা হয়তো তা সঠিকভাবে পালনো করছে না। আবু সায়েম নামে একজন এ্যাডভোকেট বলেন, আদিবাসীরা হলো আদিকাল থেকে বসবাস করে আসা এ অে লর মানুষ। আমাদের উচিত সুখ-দুঃখে তাদের পাশে থাকা। তাদের সকল অধিকার ঠিকমত তাদের বুঝিয়ে দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।
এসব অসহায় আদিবাসী ও শীতার্তদের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো সাহায্যের ব্যবস্থা আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডবলিউ এম রায়হান শাহ বলেন, আমরা ইতি মধ্যে প্রায় ২৬শ কম্বল বিতরণ করেছি। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে এসব কম্বল বিতরণ হয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়নে।
আমি নিজেও প্রকৃত শীতার্ত ও মাদ্রাসাগুলোতে বেশ কিছু কম্বল বিতরণ করেছি। এছাড়া গাভীর রাতে পীরগঞ্জ ষ্টেশনপড়া সহ অসহায় মানুষ গুলোকে খুঁজে তাদের বাড়িতে গিয়ে কম্বল দিয়ে এসেছি। এবার আরো কিছু কম্বল এসেছে সেগুলিও বিতরণ হয়ে যাবে।



