পাটকেলঘাটায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ও সন্তানকে পেটানোর অভিযোগ ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধে

35

খান নাজমুল হুসাইন, তালা : পাটকেলঘাটায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ও সন্তানকে পিটিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির বিরুদ্ধে। ওই স্বামী তালার পাটকেলঘাটা থানার ভারসা গ্রামের মফিজুল মোড়লের ছেলে আনিসুুুুুুর রহমান(৩১)। গত ২১ সেপ্টেম্বর’১৮ তারিখে তালার পাটকেলঘাটা থানার ভারসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী স্ত্রীর পিতার তালার গোপালপুর গ্রামের নুর ইসলাম মোড়ল জানান, বিগত ৩ বছর পূর্বে পাটকেলঘাটা ভারসা গ্রামের মফিজুল মোড়লের ছেলে আনিসুর রহমানের সাথে আমার একমাত্র কন্যা রুমি খাতুন(২২) এর পারিবারিকভাবে ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের সময় ১ লক্ষ ১ টাকা দেরমোহর ধার্য্য করে ৫০ হাজার টাকা মূল্যে একটি সোনার চেইনসহ প্রায় ১লক্ষ ১০ হাজার টাকার সাংসারিক মালামালসহ কন্যাকে আনিসুরের হাতে তুলে দেই। কিছু যেতে না যেতেই যৌতুক লোভী আনিসুর নতুন মটরসাইকেলের দাবিতে স্ত্রী রুমিকে চাপ প্রয়োগ করে বলে বাপের কাছ থেকে টাকা আনতে বলে। এবিষয় নিয়ে ইতোপূর্বে কয়েকবার স্বামী আনিসুর রহমান, শশুর মফিজুল মোড়ল ও শ্বাশুড়ী হাসিনা বেগম আমার কন্যা রুমি মারপিট করে। তারপরও আমার কন্যা সব কিছুই মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছিল।

এদিকে আনিসুর রহমানের অফিসের কাজে বাইরে চলে আসলে খুটিনাটি বিষয় নিয়ে দজ্জাল শ্বাশুড়ী হাসিনা বেগম আমার কন্যা রুমিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি কয়েকবার মারপিট করে গুরুতর আহতও করে। কন্যা রুমি আমাকে কয়েকবার টাকার কথা বলেও আমি গরিব হওয়ায় আনিসুরের দাবিকৃত মটরসাইকেল কিনে দিতে না পায় গত ২১ সেপ্টেম্বর’১৮ তারিখ সকালে আনিসুর, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি তাকে বেধড়ক মারপিট করে। এমনকি তাদের ১ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে আনিসাকে মারপিট করে দ্বিধাবোধ করেনি তারা। মারার সময় আনিসুর প্রকাশ্যে বলে বাচ্চাটাকে না মারতে পারলে তোকে(স্ত্রী রুমিকে) তালাক দেওয়া সমস্যা হয়ে যাবে। এসময় স্থানীয়রা ছুটে আসলে আনিসুর আমার কন্যা ও নাতনী আনিসা গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। আমি খবর পেয়ে তাদের নিয়ে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। এঘটনায় আদালতে একটি মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে আহত স্ত্রী রুমি ওই যৌতুক লোভী স্বামীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করে বলেন, আর কোন নারী যেন এধরনের নির্যাতনের শিকার না হয়। তার জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।