নগরঘাটা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নায়েবের আত্মসাৎ করা সেই গাছের সন্ধান মিলেছে! (ভিডিও)

80
নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরকারি সেই গাছ কেঁটে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি- লাল সবুজের কথা।
নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরকারি সেই গাছ কেঁটে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছেন। ছবি- লাল সবুজের কথা।

মো. জাবের হোসেন : নতুন ভূমি অফিসের যাতায়াতের পথের জন্য ভূমি অফিসের সামনে থাকা গাছ অপসারণের নামে কেঁটে চুরি করে বিক্রি করে দেওয়া সেই গাছের সন্ধান মিলেছে। ঘটনাটি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শ্যামল কুমার অধিকারী কিছুদিন পূর্বে নতুন উদ্বোধন হওয়া ভূমি অফিসের সামনে শতবর্ষী একটি কাঁঠাল গাছ গত শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) লোকচক্ষুর অন্তরালে কেঁটে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ তোলে এলাকাবাসী। কিন্তু কথা ছিলো দেবদারু গাছ অপসারণ করা, বিক্রি করা নয়। এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার অধিকারী দেবদারু গাছের সাথে শতবর্ষী কাঁঠাল গাছ এবং আম গাছের বড় বড় ডাল-পালা সহ মোট ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে সেসময় সবকিছু অস্বীকার করেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শ্যামল কুমার অধিকারী।

এরপর নগরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শ্যামল কুমার অধিকারীর দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) সকালে ভূমি অফিসের সামনে এলাকাবাসীরা মানববন্ধন করে।

গাছ কোথায় ছিলো সেটির কোনো সন্ধার পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরে সেই গাছের সন্ধার পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শ্যামল কুমার অধিকারী সেই গাছ অপসারণের নামে কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন এমন ভিডিও এবং ছবি এই প্রতিবেদকের কাছে চলে এসেছে। ভিডিও এবং ছবিতে দেখা দেছে সেই গাছ বিক্রি করে স্থানীয় ভাষায় নছিমনে (পরিবহণ) করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছেন। ছবিতে দেখা গেছে ভূমি অফিসের পিয়ন মাহফুজ লুঙ্গি পরা অবস্থায় গাছ নছিমনে তুলে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছেন। আরো সহযোগিতা করেছেন ভূমি অফিসের অফিস সহকারী শমসের।

তবে সরকারি গাছ চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে নগরঘাটা ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) শ্যামল কুমার অধিকারীর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে ইউএনও সাহেব সবকিছু জানেন বলে ফোন কেটে দেন। পরে কয়েকবার তার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি আর রিসিভ করেন নি।

এ ব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)  প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের তদন্ত চলমান আছে।

ভিডিও লিংঙ্ক : https://youtu.be/3UJ32OX3fNs