নওগাঁর মান্দায় স্ট্রিট লাইটের আলোয় আলোকিত গ্রামীণ জনপদ

25
নওগাঁর মান্দায় অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের  মোড়ে মোড়ে এভাবেই পথচারীদের আলো দিতে দাঁড়িয়ে আছে স্ট্রিট লাইট নামক সৌরবাতি। ছবি- প্রতিনিধি।

মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁর মান্দায়  স্ট্রিট লাইট নামক  সৌরবিদ্যুতের আলোয় আলোকিত গ্রামীণ জনপদ। লোড শেডিংয়ের ঝামেলা না থাকায় এ সড়কবাতিগুলো একটানা আলো দেয় সারারাত। এ আলোর ফলে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই আগের তুলনায় কমেছে অনেক। পাল্টে গেছে উপজেলার গ্রামীণ জীবনমান। গ্রামের মানুষের জীবনেও শহরের পরিবেশের ছোঁয়া লেগেছে।
জানা গেছে ,  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের  গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি টিআর ও কাবিটার আওতায় উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও নির্জন অন্ধকার সড়কে সৌরবিদ্যুতের (স্ট্রিট লাইট) সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে ইডকলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান  সোলারেন ফাউন্ডেশন। মান্দা উপজেলা সোলারেন ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার মিল্টন মাহমুদ জানান,২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত ১ম এবং ২য় পর্যায়ে মোট ৪ টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১১১৬টি সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়।
এছাড়া একই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, স্কুল ও কলেজসহ দুঃস্থ পরিবারে ১৯৬৮টি সোলার হোম সিস্টেম লাগানো হয়েছে।
এতে ১১ কোটি ৭৬ লাখ ২ হাজার ৪ শ ২ টাকা ব্যয় হয়েছে। আগের বছরও বিভিন্ন স্কুল কলেজ মসজিদ মন্দিরে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করা হয়েছে স্ট্রিট লাইট নামক সৌরবাতি। চলতি অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো সোলার বাতি বসানোর স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লাগানো হয়েছে এসব সৌরবাতি। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিগুলো জ্বলছে। আবার সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম  বলেন, পাঠ ও বস্ত্র  মন্ত্রণালয়ের সাবেক  মন্ত্রী মুহাঃ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক  এমপি  স্যার সরকারের সকল বরাদ্দে সর্বোচ্চ জনস্বার্থ নিশ্চিতে বদ্ধ পরিকর। তাই তিনি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌর বিদ্যুতের বাতি বসানোর নির্দেশ দেন। গ্রামের মানুষ এতোদিন সড়ক বাতি সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। সন্ধ্যা হলেই গ্রামগুলো ভুতুরে পরিবেশ তৈরি হতো। রাস্তায় আতঙ্কে মানুষ চলাফেরা করতে পারতো না। সৌর বাতি বসানোর ফলে রাতের আঁধারে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। এতে গ্রামের মানুষের জীবনে ও শহরের ছোঁয়া লেগেছে।
উপজেলা নির্বাহী আবু বাক্কার সিদ্দিক বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অব্যাহত উন্নয়নে পাল্টে গেছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র। এরই ধারাবাহিকতায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের  গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি টিআর ও কাবিটার আওতায় উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও নির্জন অন্ধকার সড়কে সৌরবিদ্যুতের (স্ট্রিট লাইট) সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এতে প্রান্তিক পর্যায়ের লোকজন ব্যাপক সুবিধা ভোগ করছেন । আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে।