মাহবুবুজ্জামান সেতু, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর মান্দায় ভালাইন ইউনিয়নে গনধর্ষন মামলা তুলে নিতে পলাতক আসামীর আতœীয়রা, আব্দুল মজিদের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে তার বিবাহযোগ্য মেয়েকে শ্লীলতাহানী ও মারপিট এবং ঘরের দরজা ও সাববাক্স ভেঙ্গে প্রায় ২ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন (পিবিআই) এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত ০৪ ফেব্রæয়ারী রোজ বৃহস্পতিবার বৈকাল অনুমান ৪ ঘটিকায় হঠাৎ করে আব্দুল মজিদের বসত বাড়ীতে গিয়ে গনধর্ষণ মামলার ১ নং পলাতক আসামী হাবিবুর রহমানের আতœীয়রা প্রায় ১২/১৪ জন মিলে মামলা তুলে নিতে হামলা চালায়। এ সময় মদপ্য অবস্থায় আব্দুল মান্নান তার মেয়ের ওড়না ও পরোনের কাপড়-চোপড় ধরে টানা-হেচড়া শুরু করে ও বিশ্রী ধরনের গালীগালাজচর-থাপ্পর মারে।
অন্যদিকে অন্যান্যরা মজিদকে এলোপাতারি ভাবে লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে। মজিদ তার মেয়েকে নেশাগ্রস্থের হাত থেকে রক্ষা করে ঘরের ভিতর ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলে, সাবল দিয়ে ঘর-দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে আক্রমন কারীরা। পাশের ঘরের দরজা ভেঙ্গে সাব বাক্সের লক ভেঙ্গে গুরুত্বপুর্ণ কাগজপত্র,ও মেয়ের বিয়ের জন্য কিছুদিন পুর্বেই জমি বিক্রয়ের প্রায় ২ লক্ষ টাকা সাব বাক্সে গচ্ছিত রেখে ছিলো সে টাকাও লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে আব্দুল মজিদ ও তার মেয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে জানায়। স্থানীয়রা এসে, আক্রোমনকারীরা মাদক সেবী ও মাদক ব্যাবসায়ী সন্ত্রাসী ধরনের হওয়ায় কেহ এগিয়ে যেতে সাহস পায় নায় বলে তারা জানায়।
আব্দুল মজিদ ও তার মেয়ে জানায়, তার স্ত্রীর এতবড় সর্বনাশ করার পর থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য রাস্তা-ঘাটে বিভিন্ন জায়গায় আসামীগনেরা ও তাদের আতœীয়রা মজিদকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলো। এমত অবস্থায় তাদের মার-পিট,তার মেয়েকে শ্লীলতাহানী,ও প্রায় ২ লক্ষ টাকা চেয়ারম্যান ও মেম্বারেরা উদ্ধার করে বিষয়টি আপোষ মিমাংসার করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু অন্যদিকে আসামীরা উল্টো মজিদকে আসামী করে একটি মিথ্যা মামলা করলে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মেম্বার বিষয়টি মিমাংসা না করে এরিয়ে যায় বলে আব্দুল মজিদ জানায়।
একের পর এক মামলা চালাতে গিয়ে সহায় সম্বল হারিয়ে এখন সর্বশান্ত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। আব্দুল মজিদ ও তার মেয়ে এ ধরনের অন্যায়ের সুষ্ঠ বিচার বিচারের দাবী জানায়।
উল্লেখ্য,স্থানীয়রা জানায়, অসহায় মজিদ একজন সহজ-সরল মানুষ। তার স্ত্রী সুন্দরী হওয়ায় এলাকার ৬ জন নেশাখোর মাদকসেবীরা তার স্ত্রীকে কিডন্যাপ করে ২ মাস আটকে রেখে জোর-পুর্বক ধর্ষন করে।
পরবর্তীতে তার স্ত্রী সেখান থেকে পালিয়ে এসে নওগাঁ নারী শিশু আদালতে মামলা করিলে ৫ জন আসামী হাজত খেটে জমিনে বের হয়ে আঃ মজিদকে মামলা তুলে নিতে রাস্তা-ঘাটে বিভিন্ন ভাবে প্রান নাশের হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এদিকে ধর্ষনের ফলে একটি ছেলে শিশুর জন্ম হয়। ১ নং আসামী হাবিবুর রহমান পলাতক রয়েছে।


