ঝিনাইদহে প্যানেল চেয়ারম্যান মতিয়ারের বিরুদ্ধে চাউল আত্মসাৎ সহ নানা অভিযোগ

11

সাহিদুল এনাম পল্লব, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানি ইউনিয়নের নাটাবাড়ীয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে হত দরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি চাউল আত্মসাৎ এবং জমি আছে ঘর নেই প্রকল্পে ঘর দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ সাংবাদিকের কাছে তথ্য প্রকাশের কারনে ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকির অভিযোগ উঠেছে।

নাটাবাড়িয়া গ্রামের কায়েম আলীর ছেলে বাল্লক মণ্ডল, মৃত আনছার আলীর ছেলে বিল্লাল মণ্ডল এবং শাহীন মণ্ডল গত ০৭/১১/২০১৯ তারিখে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করে বলে যে তারা সরকারের খাদ্র বান্ধব কর্মসূচী অধীনে ৩০/০৯/২০১৬ সাল থেকে ০৯/০৪/২০১৯ পযুন্ত ১০ টাকা কেজি করে চাউল পেয়ে আসছিল কিন্ত বিগত ০৯/০৪/২০১৯ তারিখে ৫ নং ওয়ার্ডের ইউ পি সদস্য মতিয়ার রহমান চাউল দেওয়ার সময়ে চাউলের কার্ড লাগবে বলে নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে কার্ড ফেরত চাইলে হারাইয়া গেছে বলে তাল বাহানা করতে থাকে। তখন আমরা এক পর্যায়ে আইনের আশ্রয়ের যাবার কথা বললে রাতের আধারে আমাদের বাড়িতে কার্ড ফেরত দিয়ে যায় আর বলে যে এ কথা কাউকে না বলার। কার্ড ফেরত পাওয়ার পর দেখা যায় যে বাল্লক মিয়ার কার্ডে ১৮/০৯/২০১৯ এবং ১০/১০/২০১৯ তারিখে এবং বিল্লাল মিয়ার কার্ডে ২৪/০৯/২০১৯ এবং ১৬/১০/২০১৯ তারিখের স্বাক্ষর করে চাউল উঠায়ে নিয়েছে। তাছাড়া শাহিনের চাউলের কার্ড ফেরত দেয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট গত ৭ ইন নভেম্বর এই অভিযোগ দিলে পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বদলী হয়ে গেলে অফিসে ঐ অভিযোগ পত্র আর খুজে পাওয়া যায় না। তখন আবার ০৪/১২/২০১৯ তারিখে অভিযোগ দেওয়া হয়।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার সত্যতা জানতে সাংবাদিক গন সরে জমিনে গেলে বেরিয়ে আসে আরও নতুন তথ্য একই গ্রামের মতিয়ারের ভাবী পরিচয় দিয়ে জানায় যে জমি আছে ঘর নেই এই প্রকল্পে ঘর দেওয়ার কথা বলে গ্রামের ৫ জনের নিকট থেকে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। তার মধ্যে একজনের ঘর দিয়েছে। বাকি ৪ জন আজ পযুন্ত ঘর পায়নি এবং তাদের টাকা ফেরত দেয়নি।

এই ঘটনা সাংবাদিকদের নিকট বলার পর মতিয়ার জানতে পেরে সাংব্দিকদের নিকট প্রকাশ করার জন্য অভিযোগ কারী ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে মারধর করতে যায়। তখন উক্ত ব্যক্তি গন নিরাপত্তার স্বার্থে ১৮/১২/২০১৯ তারিখে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে। যার ডায়েরী নং ৯৮২।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে অত্র এলাকার বিশিষ্ট বীর মুক্তি যোদ্ধা আকবর আলী জানান যে ঘটনা জানতে পেরে আমি নিজেই তাদের পক্ষে অভিযোগ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকটে যায়। তারপর থেকে মতিয়ার অভিযোগ কারীদের নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাছে এবং অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিচ্ছে। উল্লেখ্য মতিয়ার রহামান ইউ পি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর গ্রামের সাধারন মানুষ তাকে সোনার প্রতীক উপহার দিয়েছিল।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে হলিধানি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মতিয়ারের কাছে জানতে চাইলে সে বলে যে আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তি হীন বানোয়াট। তারা সামাজিক ভাবে আমার বিরুদ্ধে হওয়ায় তারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছে। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বদরুদ্দোজা শুভ বলেন যে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করতে পাঠান হয়েছে।