সর্বশেষ সংবাদ

গোবিন্দগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও সমাবেশ

গোবিন্দগঞ্জ সংবাদঃ গোবিন্দগঞ্জে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী করেছে। র‌্যালী শেষে স্থানীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের অনুমোদন না পাওয়ায় সেখানে তারা সমাবেশ করতে পারেনি। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও জনউদ্যোগ যৌথভাবে এ কর্মসুচীর আয়োজন করে।

আদিবাসী পল্লীর মাদারপুর থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও লাল পতাকায় সজ্জিত র‌্যালীটি মাদারপুর-জয়পুর থেকে শুরু করে কাটার মোড় হয়ে দীর্ঘ ৮ কিঃ মিঃ রাস্তা অতিক্রম করে গোবিন্দগঞ্জ শহীদ মিনার সমাবেশস্থলে পৌঁছার আগে গোবিন্দগঞ্জ গার্লস মোড়ের মাথায় পুলিশি বাধার সম্মুখিন হয়। পুলিশ তাদের অনুমতি না থাকায় শহীদ মিনারে যেতে বাধা দেয়। ফলে মিছিলকারীরা গার্লস মোড়েই সড়কের বসে পড়ে এবং সেখানেই সমাবেশ করতে বাধ্য হয়।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি ওয়াজিউর রহমান রাফেল, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহবায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, সিপিবি জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য প্রতিভা সরকার ববি, সিপিবি উপজেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, মানবাধিকার কাজী আব্দুল খালেক,অঞ্জলি রানী, আদিবাসী নেতা গণেশ মুর্মু, সুফল হেমব্রম, থমাস হেমব্রম, বার্নাবাস টুডু, রেজাউল করিম, স্বপন শেখ, প্রিসিলা মুর্মু, অলিভিয়া মার্ডি প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সাধারণত কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অণুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আগমনের পূর্বে যারা বসবাস করত এবং এখনও করে; যাদের নিজস্ব আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে; যারা নিজেদের আলাদা সামষ্টিক সমাজ-সংস্কৃতির অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত, তারাই আদিবাসী। আদিবাসীদের উপজাতি হিসেবে সম্বোধন করা একেবারেই অনুচিত, কারণ তারা কোন জাতির অংশ নয় যে তাদের উপজাতি বলা যাবে। বরং তারা নিজেরাই এক একটি আলাদা জাতি।

এসময় বক্তারা বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠী নীতি-নির্ধারণী প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ায় যুগে যুগে এদের অনেকে প্রান্তিকায়িত, শোষিত। যখন এসব অন্যায্য, অবিচারের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকারের স্বপক্ষে তারা কথা বলেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা দমন নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জের আদিবাসীরাও তার ব্যতিক্রম নয়।

সমাবেশে অবিলম্বে আদিবাসীদের মানবাধিকার লংঘনের ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্থ আদিবাসী-বাঙালিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আদিবাসী-বাঙালি নারী-পুরুষের উপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের জুলুম ও পুলিশী হয়রানি বন্ধ করা, আদিবাসীদের রিক্যুইজিশন করা সম্পত্তি ফেরত দেয়াসহ ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।