কয়রায় লোনা পানিতে বিপর্যস্ত জনজীবন

32

ওবায়দুল কবির সম্রাট, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার সুন্দরবন উপকূলীয় জনপদ খুলনার কয়রায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩-১৪/১ ও ১৩-১৪-২ পোল্ডারের বেড়িবাঁধ গত ২০ মে আম্ফানের জলোচ্ছাসে ২০টি পয়েন্ট ভেঙে গিয়ে কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর লোনা পানিতে কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশি, দক্ষিন বেদকাশি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।

এলাকাবাসী প্রথমে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে রিংবাঁধ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করেছিল। পরবর্তীতে সরকারি সহায়তায় রিংবাঁধে মাটির কাজ করা হয়। ১৯ পয়েন্টে পানি আটকানো সম্ভব হলেও সর্বনাশা কাশিরহাটের বেড়িবাঁধ আজো মেরামত করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিনিয়ত হুহু করে জোয়ারের পানি ওঠায় উত্তর বেদকাশির কাশিরহাট, পূর্ব ও পশ্চিম হাজতখালি, কাটমারচর, পাথরখালি, শেখ সরদারপাড়া, রত্না, পানবাড়ি, বড়বাড়ি, গাজীপাড়া কাটকাটা গাববুনি সহ অন্যত্র লোনা পানিতে ভরে গেছে। গত ২০ আগস্ট দিনের প্রবল জোয়ারে নতুন করে কয়রা সদরের ঘাটাখালি ও ২নং কয়রার রিংবাঁধ ভেঙে গিয়ে আবারো হাজার হাজার মানুষ পানিবন্ধি হয়ে পড়ে। এলাকার লোকজন কাজ করে ঘাটাখালি রিংবাঁধ গতকাল মেরামত করে। কিন্তু ২নং কযরার ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ রাত ১০টা পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় শত শত মানুষ বস্তাভর্তি মাটি ফেলে শেষ রক্ষা করতে পারেনি।

তীব্র জোয়ারের স্রোতে পাইলিং সহ মাটি সরে যাওয়ায় বাঁধটি রক্ষা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম হুমায়ুন কবির। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এ বাঁধটি মেরামতের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের সিংহভাগ এবং কয়রা সদরের অর্ধেক এলাকা আম্পানের পর থেকে লোনা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিল ও নিচু এলাকার ঘরবাড়ি লোনা পানিতে ডুবে থাকায় হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন পার করছেন। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তা ও বাঁধের ওপর আশ্রয় নিয়েছে। ঘরে খাবার না থাকায় প্রতিদিন অসহায় নারী পুরুষদের ত্রানের আশার উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের দিকে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

তবে এলাকার মানুষের সরকারের কাছে জোর দাবী ত্রান নয়, অতিসত্বর টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মান। লোনা পানির কারণে জমি জায়গার মালিকেরা চলতি মৌসুমে আমন ফসল লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আক্তারুজ্জামান বাবু, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এসএম শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ পরিদর্শন করে দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দেন। কয়রা সদরের ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, বিধ্বস্ত বাঁধ মেরামতের কাজ চলমান আছে ইনশাল্লাহ ২/১ দিনের ভিতর কয়রা সদর পানি মুক্ত হবে। তবে ত্রাণ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পনি বলেন, পানি বন্ধিপরিবারেদিন দিন খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। সর্বত্র অভাব অনটনেচারদিকে হাহাকার বিরাজ করছে। ভয়াবহ কাশিরহাটের বাঁধ মেরামতের কাজ ধীর গতিতে চলছে। জরুরী ভিত্তিতে বাঁধটি মেরামত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান তিনি।