ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’ বাস্তবায়নে নানামুখী কার্যক্রমে বদলে যাচ্ছে সাতক্ষীরা চিত্র। জেলায় বসবাসরত সকল নাগরিক যদি নিজেদের দায়িত্ব মনে করে নিজ এলাকা পরিষ্কারের দায়িত্ব নেন, তবেই সম্ভব সাতক্ষীরাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

এছাড়া আমাদের বাসাবাড়ির আশপাশে এবং ছাদে সবুজ বৃক্ষায়ন করি তবে খুব সহজেই গ্রিন সাতক্ষীরা বাস্তবায়ন হবে। আমরা যেমন বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখি তেমনি বাসার আশপাশও পরিষ্কার রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমার অফিস, আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আশপাশ আমাকেই পরিষ্কার করতে হবে। তবেই খুব সহজে বাস্তবায়ন হবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের স্বপ্নের ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’।

আমার কাছে মনে হয়েছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’ বাস্তবায়নের যে স্বপ্ন দেখছেন সেটি সাতক্ষীরাবাসীর জন্য আনন্দময়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত সুন্দরবন ঘেষা এক প্রাচীন জনপদ সাতক্ষীরা। ‘সড়ক পথে সুন্দরবন’ স্লোগানে পরিচিত এ জেলার প্রাচীন ইতিহাস এক প্রকার অন্ধকারচ্ছন্ন। ফলে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূতাত্ত্বিক ও প্রত্মতাত্বিক গবেষনার ওপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় থাকেনা। প্রকৃতপক্ষে সাতক্ষীরা জেলার প্রাচীন ইতিহাস আমাদের কাছে অজ্ঞাত, আর মধ্যযুগ ও আধুনিকযুগ অজ্ঞাত ও অবহেলিত। ‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’ বাস্তবায়নে সবায়কে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আমরাও যদি পরিচ্ছন্নতায় হাত লাগাই, তবে সাতক্ষীরা জেলা ক্লিন এবং গ্রিন হিসেবে রুপ নেবে। আমাদের বাসাবাড়ি এবং অফিস-আদালতের ময়লা-আবর্জনা এখানে সেখানে না ফেলে যদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখি এবং প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ে সেটা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করলে শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে। অনেক সময় দেখা যায়, বাসা বা প্রতিষ্ঠানের সামনে বা পাশের সড়কে ওপরেই ময়লা ফেলা হয়। আমরা কিন্তু সবাই জানি যে, এভাবে ময়লা ফেলা ঠিক নয়! তবু কেন রাস্তায় ময়লা ফেলি? কারণ এর জন্য আমি কোনো জবাবদিহিতার আওতায় পড়ছি না। আমার কোনো শাস্তি হচ্ছে না। রাস্তায় ময়লা ফেলার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে চলাচলে পোহাতে হয় অসহনীয় দুর্ভোগ। তখন আমরা সরকার বা পৌরসভাকে অবলীলায় দোষারোপ করি।

আমার বাসা, আমার অফিস-আদালত এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আশপাশের ময়লা পরিষ্কার করার দায়িত্ব যদি জেলা প্রশাসন আমাকেই দেয় এবং যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব আমি পালন করছি কি না তা তত্ত্বাবধান করে তবে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন সাতক্ষীরা গড়ে উঠবে। কারো বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের সামনে পিছনে ও পাশের সড়কের অর্ধেকটা তাকে পরিষ্কার রাখতে হবে। না রাখলে কর্তৃপক্ষ অর্থদন্ডসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। অর্থ দন্ডের মাধ্যমে যে অর্থ বা টাকা দায়ীর কাছ থেকে নেওয়া হবে, সঙ্গে সঙ্গেই সেই টাকা দিয়ে পরিচ্ছন্নতা-কর্মী ডেকে পরিষ্কার করাবার ব্যবস্থা করবেন পৌর কর্তৃপক্ষ। পরিচ্ছন্ন শহর গড়া সম্ভব না হলে তো আমাদেরই সমস্যা। কেননা অপরিচ্ছন্নতা, দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতার সমস্যা আমাদেরই পোহাতে হয়।

‘ক্লিন সাতক্ষীরা, গ্রিন সাতক্ষীরা’ কর্মসূচির আওতায় সাতক্ষীরা জেলাকে নান্দনিকরূপে গড়ে তোলার মাস্টারপ্লান করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে- রাস্তার দুই পাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, ডাস্টবিন নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস প্রাঙ্গণ পরিস্কার, প্রাণসায়ের খালের দুই পাশ পরিস্কার, পৌর এলাকার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ ও ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। আর এই কর্মসূচি চলবে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত।

error: লাল সবুজের কথা !!