আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে এক মাত্র চালক সৈয়দ আলী (৭০) মাথায় হেলমেড দিয়ে ভ্যান গাড়ি চালান। ২৮ বছর ধরে ভ্যান গাড়ি চালিয়ে আসলেও কোন দূর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে। আর এ কারণে তাঁর ভ্যান গাড়িতে যাত্রীও হয় বেশী। ওই চালকের বাড়ি উপজেলার মধ্যকুল গ্রামে।
এলাকাবাসী জানায়, কেশবপুরের বিভিন্নসড়কে সকাল থেকে অধিক রাত পর্যন্ত মাথায় হেলমেড পরে ভ্যান গাড়ি চালান সৈয়দ আলী। হেলমেড পরার কারণে তার ভ্যান গাড়িতে যাত্রীরা চড়তেও স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। সড়কে যাতায়াতের সময় সৈয়দ আলী খুবই সতর্কতা অবলম্বন করেন। সড়ক দিয়ে বাস-ট্রাক যাওয়ার সময় তিনি ভ্যান গাড়ি ধীরে ধীরে চালান। ভ্যানের যাত্রী রেজাউল বাসার বলেন, সৈয়দ আলী ভাইয়ের ভ্যানে উঠলে মনটাও ভাল লাগে। কারণ চালক মাথায় হেলমেড দিয়ে গাড়ি সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে চালিয়ে থাকেন।
সৈয়দ আলী বলেন, তিনি ২৮ বছর ধরে ভ্যান গাড়ি চালাচ্ছেন। এর মধ্যে ২০ বছর পায়ে চালিত ও ৮ বছর ইঞ্জিন চালিত ভ্যান চালিয়ে আসছেন। যশোর-চুকনগর, কেশবপুর-কলাগাছি, কেশবপুর-সাগরদাঁড়ি, কেশবপুর-ত্রিমোহিনী সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে তিনি হেলমেড মাথায় পরে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। তাঁর সংসারে সদস্য সংখ্যা ৬ জন। ভ্যান চালিয়েই সংসারের খরচ জোগাড় করতে হয়।
ভ্যান চালাতে হেলমেড পরার বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ আলী বলেন, মাথায় হেলমেড থাকলে আলো ও কুয়াশা সহজে চোখ পড়েনা। যে কারণে ধীর মস্তিষ্কে গাড়ি চালানো যায়। গত ২৮ বছরে কখনো তাকে দূর্ঘটনায় পড়তে হয়নি। ধীরে গাড়ি চালানোর কারণে যাত্রীরা খুঁশি হয়। আর এ কারণে তার যাত্রীর সংখ্যাও বেশী হয়। কেমন রোজগার হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংসার চলিয়েও প্রতিদিন কিছু টাকা সঞ্চয় হয়। তিনি অন্য ভ্যান চালকদেরও মাথায় হেলমেড পরে গাড়ি চালানোর জন্য সচেতন করে থাকে বলে উল্লেখ করেন।



