কেশবপুরে মাছ বাজারে নির্মিত মৎস্য আহরণোত্তর পরিচর্যা কেন্দ্রটি ভেঙে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে

48

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি :
কেশবপুর শহরের পাইকারি মাছ বাজারে নির্মিত মৎস্য আহরণোত্তর পরিচর্যা কেন্দ্রটি বর্তমান দেখভালের অভাবে ভেঙে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গত ২ বছরেও পরিচর্যা কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় সরকারের গচ্চা যেতে বসেছে ৩০ লাখ টাকা।

মৎস্যজীবীরা মৎস্য আহরণোত্তর কেন্দ্রটি পুনঃসংস্কারসহ চালুর দাবি জানিয়েছেন।কেশবপুর উপজেলায় ৪ হাজার ৬শ’ ৫৮টি মাছের ঘের ও হাজার হাজার পুকুরে প্রতিবছর লাখ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়।

এসব মাছ কেশবপুরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানি হয়। এ পেশায় জড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন।একথা বিবেচনা করে সরকার মাছের অভয়ারণ্য সৃষ্টি, উৎপাদিত মাছ ধুয়ে, মুছে পরিস্কার করে প্যাকিং ও বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে সরকার কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে মৎস্য অধিদফতরের আওতায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে এক তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ২ বছর আগে ঠিকাদার কাজ সমাপ্ত করে চলে গেলেও তা ভেঙেচুরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কেশবপুর মাছ বাজার মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান বিশ্বাস বলেন, পাইকারি মাছ বাজারে ২৩ জন আড়ৎদার রয়েছেন। এ কাজে আড়তে ৪ শতাধিক শ্রমিক কর্মরত আছে। প্রতিদিন আড়ৎগুলোই ৮৪ থেকে ৮৫ মেট্রিক টন মাছ আমদানি ও রপ্তানি হয়। ক্রেতাদের মাছ রাখার সুবিধার্থে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল।তিনি অভিযোগ করেন, ভবনটি নির্মাণকালে কাউকে অবহিত করা হয়নি। ঠিকাদার তার ইচ্ছামতো কাজ করে চলে গেছেন। আজও তা হস্তান্তর না হওয়ায় মাছ ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। এর অভিভাবক না থাকায় বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার অভাবে কর্তৃপক্ষ ইতোপূর্বে মিটার খুলে নিয়ে গেছে।

কেশবপুর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা এসএম আলমগীর কবীর বলেন, জেলা মৎস্য অফিসের তত্ত্বাবধানে কাজটি করা হয়েছিল। ভবন নির্মাণে কত টাকা বরাদ্দ ছিল তা জানা নেই।যশোর জেলা মৎস্য অফিসার আনিসুর রহমান বলেন, ২০১৯ সালে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে মৎস্য আহরণোত্তর পরিচর্যা কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধন করে কাজ শুরু করা হবে।