কেশবপুরে খাদ্য সংকটে কালোমুখো হনুমান হানা দিচ্ছে ফসলের ক্ষেতে

21

আজিজুর রহমান, কেশবপুর প্রতিনিধি : কেশবপুরে করোনাকালীন সময়ে খাদ্য সংকটে কালোমুখো হনুমান হানা দিচ্ছে ফসলের ক্ষেতে। এছাড়া খাদ্যের সন্ধানে তারা দলছুট হয়ে এলাকা ছেড়েও অন্যত্র চলে যাচ্ছে।

সরকারিভাবে কালোমুখো হনুমানের জন্য যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিলুপ্ত প্রায় এ হনুমানের পরিচর্যা ও সংরক্ষণে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছেন কেশবপুরের জনসাধারণ।

উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকশ বছর ধরে কেশবপুর সদর ও পার্শ্ববতী ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রায় ৬শ বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান বসবাস করছে। বর্তমানে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর, হাসপাতাল এলাকা, পাইলট স্কুল এলাকা, ভোগতীনরেন্দ্রপুর, মধ্যকুল, রামচন্দ্রপুর, ব্রহ্মকাটিসহ ১২টি স্পটে তাদের বিচরণ রয়েছে। বন বিভাগ থেকে প্রতিদিন বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমানের জন্য ৩৫ কেজি পাকা কলা, ৪ কেজি পাউরুটি ও ৪ কেজি বাদাম দেওয়া হয়।

তবে এত সংখ্যক হনুমানের বিপরীতে ওই খাবার সকলের মাঝে পৌঁছায় না। বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা কেশবপুরে আসলে ও এলাকার মানুষ কমবেশী তাদের খাবার দেয়।এদিকে, করোনাকালীন সময়ে কেশবপুরে পর্যটকের আগমন না আসায় ও মানুষের জীবন যাত্রা থমকে যাওয়ায় কালোমুখো হনুমান খাদ্য সংকটে পড়ে যায়।

এ কারণে তারা ক্ষুধা নিবারণ করার জন্য হানা দিচ্ছে ফসলের ক্ষেতে, ফলফলাদির গাছসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানে। এছাড়া দলছুট হয়ে কালোমুখো হনুমান খুলনা ও চৌগাছা এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।কেশবপুর পৌর শহরের ভোগতী এলাকার কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, তারা দেড় বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন। বুধবার সকালে একদল কালোমুখো হনুমান ওই ক্ষেতে এসে প্রায় দেড় কাটা জমির পাটের কচি পাতা খেয়ে ফেলে।

এছাড়া পাট ক্ষেতে ছোটাছুটি করে ফসলের বেশ ক্ষতি করেছে।উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের বেগমপুর গ্রামের মুরাদ হোসেন জানান, কেশবপুর শহর থেকে ক্ষুধার্ত একটি কালোমুখো হনুমান মঙ্গলবার বিকেলে তাদের এলাকায় আসে। ক্ষুধার্ত ওই হনুমানটিকে বিভিন্ন ফলমূল খেতে দেওয়া হয়। প্রায়ই এভাবে ক্ষুধার্ত হনুমান এলাকায় এসে।