কেশবপুরের ওসিসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ

55
অভিযোগ

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: কেশবপুরে বখাটের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কলেজ ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদি হয়ে ৩ জনকে আসামী করে কেশবপুর থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ অভিযান চালিয়ে বখাটে আলমগীর হোসেনকে আটক করে। পরে অজ্ঞাত কারণে ওই রাতেই পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর থেকে ওই বখাটে বেপরোয়া হয়ে কলেজ ছাত্রী ও তার পরিবারকে একের পর এক অত্যাচারে অতিষ্ট করে তুলেছে। উপায়ন্তর না পেয়ে ৪ নভেম্বর ওই ছাত্রী বাদি হয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসীম ঊদ্দিন, আলমগীর হোসেনসহ ৪ জনকে অভিযুক্ত করে সুষ্ঠু বিচার চেয়ে যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার টিটাবাজিতপুর গ্রামের আবুল কাশেম সরদারের কলেজ পুড়–য়া মেয়ে বাগেরহাট প্যারামেডিকেল সেন্টারের একজন নিয়মিত ছাত্রী। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে তার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বর্তমান সে বাড়িতে অবস্থান করছে। এ সুযোগে একই গ্রামের আবদুল মজিদ সরদারের বখাটে ছেলে আলমগীর হোসেন বিভিন্ন সময়ে তাকে কু-প্রস্তাবসহ উত্যক্ত করে আসছে। বিষয়টি ওই ছাত্রী তার মা-বাবাকে জানায়। এতে আলমগীর হোসেন ও তার দুই সহযোগি বায়েজিদ ও আবদুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৩ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেলে ওই ছাত্রীর মা-বাবা বাড়িতে না থাকার সুয়োগে তাকে ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার ডাক চিৎকারে এলাকাবাসি ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্রী বাদি হয়ে আলমগীর হোসেন, বায়েজিদ ও আবদুর রহমানকে আসামী করে কেশবপুর থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তাৎক্ষণিক থানার উপ-পরিদর্শক অরূপ কুমার বসু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। অজ্ঞাত কারণে পুলিশ বাদির সাথে কোন আপোষ মিমাংশা না করেই ওই রাতেই আলমগীর হোসেনকে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে আসামীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি দিচ্ছে। বর্তমান বখাটেরা মেয়ের পিতা আবুল কাশেম সরদারকে মাদকসহ বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। ফলে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক রটে যাওয়ায় পরিবারটির সম্মানহানি ঘটেছে। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, কেশবপুর থানার ওসিসহ আলমগীর হোসেন ও তার দুই সহযোগি বায়েজিদ ও আবদুর রহমানের এহেনও কর্মকান্ডে তাঁর আতœহত্যা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। আলমগীর হোসেন বলেন, অহেতু হয়রানি করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে।

থানা পুলিশ আমাকে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। থানার উপ-পরিদর্শক অরূপ কুমার বসু বলেন, আলমগীর হোসেনকে থানায় আনা হয়। পরে ওই ছাত্রীর উত্যক্তের কোন প্রমাণ না পাওয়ায় ওসি স্যারের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক করা হয়েছিল। গোপনে ও প্রকাশ্য তদন্তে ওই ছাত্রীর উত্যক্তের প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাদির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে যশোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, অভিযোগ প্রাপ্তির পর সহকারি পুলিশ সুপার মনিরামপুর সার্কেলকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।