কমিটির পর ফের পাল্টা কমিটি, স্থানীয় রাজনীতিতে আত্মকোন্দল কমবে কবে?

33

আবদুল ওয়াহাব, লোহাগাড়া প্রতিনিধি :
বছর খানেক আগে দক্ষিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষনার পরপরই পাল্টা অন্য একটি কমিটি দেওয়া হয়। কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সদস্যরা বারবারই বলছিলেন তৃনমূল নেতা কর্মীরা মূল্যায়ন হয়নি তাই আমরা এই কমিটি গঠন করেছি। এবার গত ১৭ তারিখ দীর্ঘ ২৮ বছর পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দীন ও সাধারন সম্পাদক আবু তাহের স্বাক্ষরিত ৬৪ সদস্যের এই কমিটিতে আসিফুর রহমানকে সভাপতি ও এরশাদুর রহমান রিয়াদকে সাধারন সম্পাদক করা হয়। কিন্তু তার ৩দিন পরেই চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা কমিটির সহ-সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম জেকি ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদক বদরুদ্দোজা জুয়েল কর্তৃক স্বাক্ষরিত ৬১ সদস্য বিশিষ্ট অন্য একটি কমিটি ঘোষনা করা হয়। যেখানে তানজীর জিহানকে সভাপতি ও ইরফান বিন ইসহাককে সাধারন সম্পাদক করা হয়।

২য় কমিটির বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সাধারন সম্পাদক আবু তাহেরের কাছে কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা কমিটিতে ৬০ জনের অধিক সহ-সভাপতি ও যগ্ন সধারন সম্পাদক রয়েছেন। প্রত্যেকজনে আলাদা করে কমিটি দিতে চাইলে ৬০টির অধিক কমিটি হবে। আর গঠন তন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি আর সম্পাদক ছাড়া কেউ কমিটি দিতে পারেনা। এই কমিটিটা কেবল হাস্যকর বৈকি কিছুই নয়। আমরা পরিপূর্ণভাবে বাচাইয়ের মাধ্যমে এবং তৃনমূল নেতা কর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের কমিটি ঘোষনা করেছি এবং এই কমিটিতে যাতে কোন প্রকার অনুপ্রবেশকারী প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে আমরা লক্ষ রেখে কমিটি দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, যারা ২য় কমিটিতে স্বাক্ষর করেছেন তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা কমিটি থেকে এবং তারা মাদক আসক্ত। এই দুইজন সংগঠনের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন বলে দাবি করেন তিনি। এইসব কর্মকান্ডের জন্য সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তবে ২য় কমিটির দেওয়ার বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম জেকির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সভাপতি সম্পাদক মিলে যে কমিটি দিয়েছে সেই কমিটিতে তৃনমূল নেতা কর্মীরা মূল্যায়ন হয়নি। সেই কমিটির অধিকাংশ সদস্য চট্টগ্রাম শহরে থাকে। গ্রাম পর্যায়ে তাদের আনাগুনা কম বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাওহীদুল ইসলাম জেকি আরো অভিযোগ করেন সভাপতি সম্পাদক মিলে যে কমিটি দিয়েছে সেই কমিটিতে ছাত্রলীগের নামধারী কিছু শিবির কর্মী ঢুকে পড়েছেন। তথ্য প্রমান আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন তথ্য এবং প্রমান উভয়টা আছে। সবশেষে পাল্টা কমিটির মাধ্যমে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটি মানে কোন্দল নয়। আমরা যারা মূল্যায়ন হয়নি তাদেরকে মূল্যায়ন করেছি। এবং কমিটি দেওয়ার বিষয়ে আমরা লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পাদকের সাথে আলোচনা করেছি। তাদের সাথে কথা বলেই আমরা এই কমিটি দিয়েছি।

এ বিষয়ে লোহগাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১ম এবং ২য় কমিটি কেউ আমার সাথে পরামর্শ করেনি। পাল্টা কমিটির মাধ্যমে দলীয় কোন্দলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রথম কমিটির মধ্যেই কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে সুতরাং ২য় কমিটি কোন্দল সৃষ্টি করবে এটাই স্বাভাবিক। ১ম কমিটির দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে তিনি বলেন, এই কমিটিটা এক প্রকার হাস্যকর। এই কমিটির অনেক সদস্য বাম রাজনীতির সাথে জড়িত। অনেকের পারিবারিক সদস্যরা এখনো বাম রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। আবার অনেকের ছাত্রত্ব নেই। অথচ আমার ছেলে ইন্টারমিডিয়েটে পড়া সত্বেও আমার ছেলের নাম কমিটিতে আসেনি। সুতরাং ১ম কমিটি যেখানে কোন্দল সৃষ্টি করছে সেখানে ২য় কমিটি কোন্দল সৃষ্টি করবে সেটা স্বাভাবিক। আর তারা কেউ আমার সাথে পরামর্শ করেনি।

উল্লেখ্য, গত ১৭ই নভেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দীন ও সাধারন সম্পাদক আবু তাহেরের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৬৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয়। ঠিক তার ৩দিন পরেই ২০ তারিখ দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম জেকি ও যুগ্ন সাধারন সম্পাদক বদরুদ্দোজা জুয়েলের স্বাক্ষরিত ৬১ সদস্য বিশিষ্ট অপর একটি পাল্টা কমিটি দেওয়া হয়।