আশাশুনিতে বয়স কম দেখিয়ে স্কুলে চাকরী, প্রাথমিকভাবে তদন্ত সম্পন্ন

74

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনির কুন্দুড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী শিবপদ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে স্কুলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্য পরিচালনা করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সেলিম, শাহজাহান আলী ও গৌরাঙ্গ গাইন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ইউপি সদস্য মমতাজ বেগমসহ শতাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী শিবপদ সরকার এর বিরুদ্ধে জেলা শিক্ষা অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করে। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার গাজী সাইফুল ইসলাম জেলা শিক্ষা অফিসারের ১ অক্টোবর’২০ তারিখের নির্দেশ মোতাবেক উশিঅ/আশা/সাত/৯৫৭নং স্মারকে আগামী ১৯ নভেম্বর সরেজমিনে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন। সে মোতাবেক কমিটির সদস্য সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সেলিম, শাহজাহান আলী ও গৌরাঙ্গ গাইন নোটিশ করে মঙ্গলবার সকালে স্কুলে উপস্থিত হন।

তদন্তকালে অভিযোগকারীর ১৩১ জনের মধ্যে মহিলা মেম্বর মমতাজ বেগম সহ মাত্র ৩ জন উপস্থিত হন। এরমধ্যে বিজন কুমার সহ ২ জনের স্বাক্ষর সম্পর্কে তাদের আদৌ জানা নেই বলে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সামনে সাফ জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ উভয় পক্ষের সমর্থকদের চাপা উত্তেজনার মধ্যে কয়েক জনের আলাদা আলাদাভাবে বক্তব্য লিখিতভাবে গ্রহণ করেন।

এছাড়া দপ্তরী কাম নৈশপ্রহারী শিবপদ সরকারকে তার চাকরীতে যোগদানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে দেখানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, সরেজমিনে ঘুরে জানাগেছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক পরিচালনা পর্ষদের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গোপনে নিজের পক্ষীয় লোকদের নিয়ে একটি পকেট কমিটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা অফিসে জমা দেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবকসহ সচেতন এলাকাবাসী জানতে পেরে উপজেলা শিক্ষা অফিসে নির্বাচনের জন্য আবেদন করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু সেলিমসহ অপর এক শিক্ষা অফিসার সরেজমিনে তদন্তপূর্বক নির্বাচনী তপশীল ঘোষণা করেন।

এতে প্রধান শিক্ষক সহ তার পক্ষীয় লোকজনের গাত্রদাহ শুরু হয়। ফলে মাছ না পেয়ে ছিপে কামড় মারতে আগামী পরিচালনা পর্ষদ গঠনে নৈশ প্রহরীর ভাই সভাপতি প্রার্থী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে স্বনামে বেনামে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের হয়।

ফলে এলাকায় স্কুলের কমিটি গঠন কেন্দ্রিক ব্যাপক গ্রুপিং এর সৃষ্টি হয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচনী তপশীল অনুযায়ী অভিভাবক সদস্যপদে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ১৪ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত, মনোনয়নপত্র জমাদান ১৮ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৯ নভেম্বর, প্রত্যাহার ২১ নভেম্বর, প্রতিক বরাদ্দ ২২ নভেম্বর এবং নির্বাচন ও ফলাফল ঘোষণা ২ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তদন্তকার্য প্রাথমিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সঠিক তদন্তের সার্থে বিভিন্নভাবে জানা ও শোনার চেষ্টা করছি।

তদন্তকার্য সম্পন্ন হলে প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়া হবে। তবে এনআইডি ও সার্টিফিকেট জাল প্রমান করার দায়িত্ব আমাদের নয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।