২৮ বছর ধরে বাঁশি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন ভবেশ

19

মোঃ নয়ন হোসাইন,পীরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ প্রাণ সখিরে, ওই শোন কদম্ব তলায় বংশী বাজায় কে এমনি পাগল করা সুর যিনি বাঁশিতে তোলেন তার নাম ভবেশ চন্দ্র। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। ক্লান্তিহীন পথিকের বেশে দীর্ঘ আটাশ বছর ধরে হ্যামিলনের বাঁশিওলার মতো কাঁধে ঝোলা আর মুখে আঞ্চলিক গানের অকৃত্রিম সুর বাঁশিতে তুলে অবিরত হাঁটছেন।

এভাবে বাঁশি বিক্রির আয় দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন ভবেশ চন্দ্র। দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলার ভাবকি গ্রামের মৃত শ্যাম চরণের ছেলে ভবেশ চন্দ্র রায়। বাবার জমিজমা কম থাকায় এবং একমাত্র সন্তান হওয়ায় শিশুকাল থেকেই ভবেশ ছিলেন ভবঘুরে। ভবঘুুরে সন্তানে আস্থা না থাকায় যে টুকু সম্পদ ছিল সে টুকু সম্পত্তি বিক্রি করে দেন বাবা ।

এতে পরিবারের নিত্য চাহিদা মেটাতে বেকায়দায় পড়েন ভবেশ চন্দ্র রায় । নিজের বাঁশি বাজানোর বিদ্যাটুকু কাজে লাগিয়ে খুঁজে নেন চলার শক্তি। আর এভাবে দীর্ঘ ২ যুগ ধরে এ বাঁশির ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। কয়েক দিন ধরে ভবেশ কে পীরগঞ্জ উপজেলার শহরের রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভ্রাম্যমাণ ভাবে বাঁশি বিক্রি করতে দেখা যায় । ভবেশ কে দুপুরে পীরগঞ্জ সংবাদপত্র এজেন্টে এর অফিসের সামনে বাঁশি বিক্রি করার সময় কথা হলে তিনি জানান, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও কাহারোল থেকে ২৫-৩০ টাকা দরে একটি মুলি বাঁশ কিনে তা থেকে ৬ থেকে ৮টি বাঁশি তৈরি করে। আর ওই বাঁশি গুলো ২০ থেকে শুরু করে ছোটগুলো ৩০ টাকা আবার বড় মোহন বাঁশিগুলো ২ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন।

এতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ টাকা বাঁশি বিক্রি হয়। তিনি বলেন, বাঁশির সুর কখনো বিক্রি হয় না। এটি আমার আত্মার খোরাক। তাই এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংস্কৃতি অঙ্গনে পরিবেশনের জন্য সরকারি ভাবে সুযোগ পেলে নিজেকে ধন্য মনে করতাম।
দৈনিক নবচেতা প্রতিনিধি এন এন রানা ছেলে কে বাঁশি ক্রয় করে দেওয়ার সময় বলেন ছোট বেলায় আমিও বাশিঁ বাজিঁয়েছি কিন্তু শৈশবকালের বিবরনে হারিয়ে গেছে সেই বাশিঁ সুর আজ আমার ছেলেদের জন্য ২ টি বাঁিশ ক্রয় করলাম ।