সর্বশেষ সংবাদ

স্বপ্ন অনুযায়ী ক্যারিয়ার গড়তে সন্তানের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে হবে

মো. ওসমান গনি শুভঃ প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে কিছু সুন্দর স্বপ্ন থাকে যেগুলো সে হৃদয়ের কুটিরে সযত্নে লালন-পালন করে বছরের পর বছর। কেউ স্বপ্ন দেখে জীবনে পড়াশোনা করে প্রকৃত মানুষের মত মানুষ হয়ে দেশ ও সমাজের সেবা করবে। কেউ লেখাপড়া শিখে বড় চাকরি করে পরিবারকে আর্থিকভাবে সাহায্য করবে। কেউ স্বপ্ন দেখে বড় খেলোয়াড় হবে।

মানুষ স্বপ্ন দেখার ফলে তার আশা বাঁচিয়ে রাখে যুগের পর যুগ। তারপর কারো স্বপ্ন সফল হয় আবার কারো স্বপ্ন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এই স্বপ্ন পূরণে প্রথম বাঁধা হিসেবে কাজ করে এক ধরনের অভিভাবক। অনেক সময় অভিভাবকই ঠিক করে দেয় তার সন্তান অদূর ভবিষ্যতে কি হবে। যেখানে তাদের সন্তানের ইচ্ছা থাকে সম্পূর্ণ আলাদা।

আমাদের সন্তানের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তার কি হবার ইচ্ছা তা জেনে সেই লক্ষ্যে তাকে এগিয়ে দিতে হবে। তার ওপরে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া কোনভাবেই যাবে না। জোর করে কিছু চাপিয়ে দিলে সে মানসিকভাবে আঘাত পেতে পারে। তার পছন্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রত্যেক সচেতন অভিভাবকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

শহর অঞ্চলে অধিকাংশ স্বপ্ন ধ্বংসের কারিগরদের বসবাস। তারা সন্তানদের ইচ্ছাকে প্রাধান্য না দিয়ে সন্তানকে সাইন্স বিষয়ে পড়াশোনা করান এবং তারপর প্রতিনিয়ত চাপ দিতে থাকেন যে তাদের ডাক্তার, ইন্জিনিয়ার, আইনজীবী, ডেন্টিস্ট, বিজ্ঞানী কিংবা বিদেশে ভাল সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনা করতেই হবে যার জন্য তারা মানসিকভাবে মোটেই প্রস্তুত থাকে না। ফলশ্রুতিতে তারা মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে এবং পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করে। এর ফলে অনেকে মাদকে জড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে মা-বাবার কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ করতে না পারায় আত্মহত্যার পথে পাড়ি জমান।

ফলে যুবসমাজ পড়ে যাচ্ছে করুন অনিশ্চয়তার দিকে। তাঁদের ভবিষ্যৎ যাচ্ছে ঘোর অমানিশার অভিমুখে। আমাদের সমাজের অভিভাবকদের এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে যে সন্তানকে ডাক্তার বা ইন্জিনিয়ার বানানোই লাগবে নাহলে তাদের জীবন অন্ধকার।

বাস্তবতা মেনে নিয়ে সন্তানের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতে হবে। যে সন্তানের খেলাধুলার প্রতি একটু আকর্ষণ বেশি তাকে খেলাধুলায় একটু বেশী মনোযোগী করে তুলতে হবে। যে সন্তানের বিজ্ঞান ভালো লাগে তাকে সেই অনুযায়ী বিজ্ঞানভিত্তিক কাজে লাগাতে হবে। যার সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ বেশি তাকে সাহিত্যের সাথে সখ্যতা তৈরি করে দিতে হবে। সর্বোপরি, সন্তানকে ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে তার স্বপ্নের দ্বার উন্মোচন করতে হবে। তার স্বপ্ন ধ্বংসের কারিগর হওয়া যাবে না। তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

error: লাল সবুজের কথা !!