সর্বশেষ সংবাদ

সৈয়দ আশরাফ ছিলেন সবার হৃদয়ে

মো. জাবের হোসেন : সৈয়দ আশরাফ ছিলেন দেশের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।কিশোর-কিশোরি থেকে শুরু করে সবার কাছে তিনি জনপ্রিয় একজন ব্যক্তি ছিলেন।তার ব্যক্তিত্বে তিনি সবার সেরা।২০১৭ সালে সৈয়দ আশরাফুলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি প্রায়ই অসুস্থ হন।তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। গেলো বছরের নভেম্বরে তার ফুসফুসের ক্যান্সার ৪র্থ ধাপে পৌঁছে।

তার চলে যাওয়া দেশের রাজনীতিতে এক চরম শূণ্যতা উপলব্ধি করছে দেশ।মাত্র কয়েক দিন হলো একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও তিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।ব্যক্তিত্বে তিনি ক্লিন ইমেজের অধিকারী।

আওয়ামী লীগের এই সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাতে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটিতে তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। এছাড়া দায়িত্ব পালন করছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রী হিসেবে।গতকাল বৃহস্পতিবার তার শপথ নেয়ার কথা থাকলেও তিনি অসুস্থ্যতার কারনে নিতে পারেননি।তিনি ইস্পিকারের কাছে সময় চেয়েছিলেন।কিন্তু তার সেই সময় আর হলোনা।

৬৮ বছর বয়স সময়ে তিনি দেশকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন।তার কাছ থেকে রাজনীতিবিদদের অনেক কিছু শেখার অাছে।

১৯৫২ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।তিনি কিশোরগঞ্জ-১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন। এর পূর্বে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

সৈয়দ আশরাফের পিতা বাংলাদেশের মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। আশরাফুল ৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। যখন আব্দুল জলিল গ্রেপ্তার হন, তখন সৈয়দ আশরাফুল আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

কর্ম ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছিলেন তুখোড়।১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্য তিন জাতীয় নেতার সাথে আশরাফুলের পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছিল। পিতার মৃত্যুর পর সৈয়দ আশরাফুল যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং লন্ডনের হ্যামলেট টাওয়ারে বসবাস শুরু করেন। লন্ডনে বসবাস কালে তিনি বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। সেসময় তিনি লন্ডনস্থ বাংলাদেশ যুব লীগের সদস্য ছিলেন। আশরাফুল ফেডারেশন অব বাংলাদেশী ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (এফবিওয়াইইউ) এর শিক্ষা সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিল।

১৯৯৬ সালে আশরাফুল দেশে ফিরে আসেন এবং জুন ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত তিনি পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে মন্ত্রীসভা গঠিত হলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পুনরায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই তার দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীত্ব থেকে অব্যহতি দিয়ে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করেন। এক মাস এক সপ্তাহ দপ্তরবিহীন মন্ত্রী থাকার পর ১৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রাখা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেন।

ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ আশরাফুল ব্রিটিশ ভারতীয় শীলা ঠাকুরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শীলা লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন।তাদের একটি মেয়ে রয়েছে (রীমা ঠাকুর), যে লন্ডনের এইচএসবিসি ব্যাংকে চাকরি করেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল থাকবে তার কৃতকর্মের জন্য।তিনি মরেও অমর হয়ে থাকবেন সবার হৃদয়ে।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, লাল সবুজের কথা

error: লাল সবুজের কথা !!