সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হোক লেখনীর ধারায়

নিগার সুলতানা সুপ্তি,মো. জাহানুর ইসলাম : মানুষ তার অন্তর্নিহিত স্বজ্ঞাকে ব্যবহার করে অর্জিত জ্ঞানের সঙ্গে সংমিশ্রন ঘটিয়ে যা অর্জন করে তার আরেক নাম প্রজ্ঞা। স্বজ্ঞা আর প্রজ্ঞার এক রহস্যময় অন্তর্বয়নের ফলে মানুষ স্বভাবতই সৃষ্টিশীল হয়ে ওঠে।এই সৃষ্টিশীলতার মূলে রয়েছে ব্যক্তি,পরিবার,গোষ্ঠী ও বিশেষ বিশেষ সম্প্রদায় বা কমিউনিটি।আর এই বিশেষ বিশেষ কমিউনিটির মাধ্যমে যে কোন কাজ খুব সহজেই করা যায়। তেমনি একটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে আমরা “বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক সংঘ” নামে একটি কমিউনিটি গঠন করেছি।

আমাদের এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো তথ্যপূর্ণ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখনির মাধ্যমে দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলোকে সবার সামনে উম্মোচন করা।শুধু তাই নয় সমস্যাগুলো দূর করে কীভাবে সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানো যায় সেই পথের সন্ধান করা।

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সৃজনশীল ও মেধাবীরা এই সংগঠনের সক্রিয় সদস্য।এখন সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিন দৈনিক ইত্তেফাক,দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক কালের কন্ঠ,দৈনিক সমকাল সহ দেশের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার সম্পাদকীয় কলাম,মতামত,তারুণ্যের সমকালীন চিন্তা,চিঠিপত্র কলামে দেশের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের লেখা প্রকাশিত হচ্ছে।

একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীর সর্বত্রই তলোয়ারের প্রাধান্য ছিল।তলোয়ারের জোরেই পাল্টে যেতো পৃথিবীর অনেক কিছু। যার তলোয়ার যত বেশি ধারালো থাকত, তার ক্ষমতাও থাকত তত বেশি। তলোয়ারের জোরেই ঘটতো রাজাদের উত্থান পতন।সময়ের বিবর্তনে আজ সব কিছুর পরিবর্তন ঘটেছে।কলম আজ তলোয়ারের জায়গা দখল করে নিয়েছে।এখন সারা বিশ্বে চলছে কলমের রাজত্ব। এখন পৃথিবীর সব কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে লেখনীশক্তির দ্বারা।যে দেশের লেখনি শক্তি যত বেশি শক্তিশালী উন্নয়নের ধারায় সে দেশ তত বেশি এগিয়ে।

আমরা লেখালেখি করে আমাদের দেশ কে এগিয়ে নিতে চাই।কেউ লেখক হিসেবে জন্ম নেয় না এটি যেমন সত্য, তেমনি নিয়মিত লেখালেখির চর্চা করলে দিনদিন লেখনি শক্তি শাণিত হবে সেটিও অসত্য নয়।লিখনি শক্তি এমন একটি শক্তিশালী হাতিয়ার যা কোন সময় বিপ্লব ঘটাতে পারে।আমরা যখন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিলাম তখন একজন কাজী নজরুল ইসলামের লেখনি শক্তিই আমাদের প্রেরণা যুগিয়েছিল,তাঁর লেখালেখিই মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল দেশপ্রেমের চেতনায়। লেখালেখিই জাতির ক্রান্তিকালে দিকনির্দেশকের ভূমিকা পালন করে। ফরাসি জাতি যখন দ্বিধায় ছিল তখন একজন রুশোর লেখালেখিই তাদের পথ বাতলে দিয়েছিল। লেখালেখি এমন এক ধরনের শক্তি যার দ্বারা সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার খুব সহজেই রোধ করা যায়। সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে নিজের সম্পর্কে জানা চাই।আর লেখালেখির মাধ্যমে মানুষ নিজেকে বুঝতে শেখে। লিখতে গিয়ে মানুষ নিজের চরিত্রের প্রচ্ছন্ন দিকগুলো আবিষ্কার করে।আমরা লেখালেখি করে আমাদের সুপ্ত প্রতিভাগুলো আবিষ্কার করে সে গুলো দেশের কাজে লাগাতে চাই।আমরা মনে প্রাণে এটা বিশ্বাস করি আমাদের মতো তরুণদের লেখনি শক্তির মাধ্যমেই দেশের অবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে। লিখনি শক্তির দ্বারাই ত্বরান্বিত হবে সমাজ পরিবর্তনের ধারা।

সকল ভুল ক্রুটি শোধরিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে লেখালেখির জগতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।আমাদের ‘বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক সংঘ’ এর সকল সদস্যই নিজেরা লেখালেখির পাশাপাশি অন্যান্য তরুণদের উৎসাহিত করছি।আশা করছি,যত দিন যাবে তরুণরা তত বেশি লেখালেখিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে।আগামীদিনে এই তরুণদের সৃষ্টিশীল লেখনীর দ্বারাই একদিন আমাদের দেশ সোনার দেশে পরিণত হবে।

লেখকদ্বয় : মো.জাহানুর ইসলাম,সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক সংঘ ও নিগার সুলতানা সুপ্তি,দফতর সম্পাদক,বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক সংঘ

error: লাল সবুজের কথা !!