সর্বশেষ সংবাদ

সিজারিয়ান মায়ের যত্নে যা করবেন

সাস্থ্য ডেস্কঃ প্রাকৃতিক উপায়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিবর্তে বর্তমানে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সিজারের সাহায্য নিতে দেখা যায়। কিন্তু সিজারের পর কী হয়, তার ব্যাপারে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। পাঠকদের জন্য সিজার পদ্ধতিতে সন্তান প্রসবের আগে ও পরে জরুরি কয়েকটি সতর্কতা সম্পর্কে সবিস্তারে জানাচ্ছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, গাইনোকলজিস্ট ডঃ সুতপা সেন।

সিজার পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিলে চার দিনের মতো হাসপাতালে থাকতে হতে পারে (যদি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুস্থ-স্বাভাবিক থাকে)। অনেক মা-ই জানেন না যে সিজার করানোর পরেও যৌনাঙ্গ থেকে রক্তপাত হয়। তবে এই রক্তপাতের পরিমাণ হবে সীমিত। খুব বেশি রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্গন্ধ এবং গাড় রঙের রক্ত নির্গত হচ্ছে কিনা, এই বিষয়গুলি লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, এগুলি সংক্রমণের লক্ষণ।

সিজার করানোর পরে আরেকটি সমস্যায় মেয়েদের ভুগতে দেখা যায় তা হল, পা ফুলে যাওয়া। এ ক্ষেত্রে ঘুমানোর সময়ে বা শুয়ে থাকার সময়ে পায়ের নিচে বালিশ দিয়ে পা একটু উঁচু করে রাখতে হবে। তাহলে পা ফোলা কমে যাবে।

সিজার করানোর পর অনেক মা-ই সন্তানকে স্তন্যপান করান না। সিজার করানোর পর তিন দিনের মধ্যে স্তন্যপান না করালেও এ সময়ে স্তনে ব্যাথা হতে পারে। সমস্যার সমাধানে তোয়ালে গরম করে সেঁক দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়াও শিশুকে স্তন্যপান না করালেও তা বের করে ফেলে দিতে হবে বা রেখে দিতে হবে।

আরেকটি ব্যাপার যা অনেক মা-ই জানেন না, তা হল বুকের দুধ ফিডারে রেখে খাওয়ানো। মায়ের দুধ ফিডারে করে ফ্রিজে রেখে দিলে তা বাচ্চাকে দেওয়া যাবে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। ঠাণ্ডা দুধ তো অবশ্যই বাচ্চাকে দেওয়া যাবে না। কিন্তু দুধের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তা শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে।

এ ছাড়াও সিজার করার পর আরও বেশ কিছু ব্যাপারে জেনে রাখা ভাল:

১) ক্যাথেটার: সিজার করানোর পর একটি ক্যাথেটার ব্যবহার করা হতে পারে তার শরীরে। এটা শুধু প্রথম দিনেই রাখা হয়। পরের দিন খুলে ফেলা হয়।

২) সেলাইয়ের দাগ: সেলাইয়ের দাগটা থেকে যায় অনেক বছর পর্যন্ত। তবে তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা অনেকটাই হালকা হয়ে যায়, আগের মতো ফুলেও থাকে না। অস্ত্রোপচারের পর এই কাটা দাগ শুকোতে দিতে হবে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ। পুরো শুকিয়ে গেলে তার পরেই কেবল দাগ দূর করার জন্য তেল মালিশ বা দাগ দূর করার ক্রিম লাগানো যেতে পারে।

৩) অস্ত্রোপচারের পর প্রস্রাবের সমস্যা: অনেকেই সিজার করার পর প্রস্রাবের সময় ভয় পান। মনে রাখবেন, এ সময় প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিত্সকের পরামর্শ মতো, কিছু ওষুধ দেবেন যা সহজে প্রস্রাবে সাহায্য করবে।

৪) শরীরে কাঁপুনি: অ্যানাসথেসিয়ার প্রভাব কেটে যাবার সময়ে অনেকের শরীরে কাঁপুনি দেখা যায়। শরীরের নিম্নভাগে, বিশেষ করে পায়ে অসাড়তা অনুভব হতে পারে। কয়েক ঘন্টার মধ্যে এই অনুভুতি কেটে যাওয়াটাই কথা।

৫) রক্তপাত: প্রাকৃতিকভাবে সন্তান জন্ম না দিলেও রক্তপাত হবেই। একে বলা হয় পোস্টপারটাম ব্লিডিং। এটা খুব বেশি হলে ছয় সপ্তাহের মতো স্থায়ী হতে পারে।

৬) ভারী কাজ নিষেধ: সিজার করার পর প্রথম ২-৩ সপ্তাহ শিশুর চেয়ে ভারী কিছু। সিজারের পর অন্তত ৪-৬ সপ্তাহ ক্লান্তিকর সব রকম শরীরচর্চা বন্ধ রাখতে হবে। এই সময় বন্ধ রাখতে হবে শারীরিক (যৌন) সম্পর্কও।

৭) হাঁটাচলা: সিজারের পর রক্ত জমাট বাঁধার ভয় থাকে। তাই সাবধানে হালকা হাঁটাচলার অভ্যাস করাটা ভাল।

৮) হাঁচি-কাশিতে ব্যাথা হতে পারে: সিজারের পর হাঁচি-কাশি দিতে গেলে পেটে ব্যাথা লাগতে পারে। এ সময়ে পেটের ওপর বালিশ চেপে ধরে রাখলে ব্যাথা কম হবে। অনেকেই এ সময়ে বেল্ট পরে থাকেন। এই বেল্টও ব্যাথা কমাতে সহায়ক। প্রথম সপ্তাহে এই সমস্যা বেশি হবে। পরে কমে যাবে।

error: লাল সবুজের কথা !!