সাতক্ষীরা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তঞ্চকী করে ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

10

মো. খলিলুর রহমান : সাতক্ষীরার এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুন্ডুর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ১৫ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভিন্ন দফতরে এক ভুক্তভোগী ঠিকাদার অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগ ও একাধিক ঠিকাদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আশাশুনি উপজেলাধীন বড়দাল জামে মসজিদের ইজিপি টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স হাশেমী কনস্ট্রাকশন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজটি পায়। যার প্যাকেজ নং- ডিডাবিøউ-৯১, টেন্ডার আইডি নং- ২২৬৪২৮। কাজ শুরুর তারিখ ০২/১২/২০১৮ ইং তারিখ হতে কাজ শেষের মেয়াদ ৩০/০৫/২০১৯। কাজটির চুক্তিমূল্য ১৪,৪৭,৯৭০ টাকা। টেন্ডার অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করে মেসার্স হাশেমী কনস্ট্রাকশনের মালিক সৈয়দ ময়মুল আকবার গত ২৪ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে চূড়ান্ত বিল পাইবার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাবর আবেদন দাখিল করেন। আবেদন অনুযায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে মতামত পাঠানোর জন্য একই তারিখে একটি সুপারিশ প্রেরণ করেন।

সুপারিশ অনুযায়ী হাশেমী কনস্ট্রাকশনের স্বত্ত¡াধীকারী চূড়ান্ত বিল পাওয়ার জন্য আশাশুনি উপজেলার প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। সেখানে যেয়ে তিনি হতবাক। কেননা ঐ প্রকল্পের প্রথম ও চূড়ান্ত বিল প্রস্তুতপূর্বক নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর সুপারিশ প্রেরণ করেছিলেন গত ২৩/০৯/২০১৯ তারিখে। যার স্মারক নং- ৪৬.০২.৮৭০৪.৯০৫.১৪.০১৪.১৮-১০১৪। এমন তঞ্চকী ও তুঘলকী কারবার দেখে ঠিকাদারদের মধ্যে বিভিন্ন মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এমন জালিয়াতির প্রতিকার ও প্রকল্পের টাকা পাইবার জন্য ভুক্তভোগী ঠিকাদার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বাস্তবায়ন এলজিইডি সদরদপ্তর ঢাকা। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এলজিইডি খুলনা বিভাগ, খুলনা। তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) এলজিইডি, সদরদপ্তর ঢাকা। তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী, এলজিইডি খুলনা অঞ্চল খুলনা। প্রকল্প পরিচালক, জিএসআইডিপি, এলজিইডি সদরদপ্তর ঢাকা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গত ২৬ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে। এদিকে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সাতক্ষীরার প্রথম শ্রেণীর একাধিক ঠিকাদার এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, এলজিইডি সাতক্ষীরা নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুন্ডু অফিস সময়ে সাইটে কাজ দেখার নামে বাসা বা অন্যত্র রিসোর্ট সেন্টারে বিভিন্ন ফুর্তিতে মেতে থাকেন।

সন্ধ্যার পরেই অফিসে ঢুকে শুরু হয় টেন্ডার থেকে শুরু করে বিল পেমেন্টে কমিশন বাণিজ্য। এবিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান নির্দিষ্ট ঠিকাদার ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চেক ইস্যু করা হয়েছে। পাওয়া না পাওয়া তার ব্যাপার। আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আক্তার হোসেনের সেলফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আমাদের অনুসন্ধানী চোখ সাতক্ষীরা এলজিইডি কার্যালয়ে অনিয়ম দূর্নীতি তঞ্চকী সহ সকল প্রকার তথ্য এমনকি চেক জালিয়াতির হোতা থেকে শুরু করে ভুয়া বিল ভাউচারে সরকারী টাকা আত্মসাতের পিছনে কারা আছে তাদের অপকর্ম প্রকাশ করা হবে।