সাতক্ষীরায় অর্থের অভাবে থেমে গেলো হেলিকপ্টার তৈরির কাজ!

13

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় অর্থের অভাবে মাঝপথে যেয়ে বন্ধ হয়ে গেলো এক মেধাবী ছাত্রের হেলিকপ্টার তৈরীর কাজ। সে সদর উপজেলার খানপুর ছিদ্দীকিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার ছাত্র ও পৌর এলাকা রইচপুর গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন। সরেজমিনে ইমরানের হেলিকপ্টার তৈরীর কাজের অগ্রগতি দেখতে গেলে ইমরান জানান, ছোটবেলা থেকে পড়াশুনার পাশাপাশি মাথায় এসেছে এসকেবেটর, হেলিকপ্টার, প্লেন আবার কখনোওবা সি প্লেন তৈরীর বাসনা।

২০১৭সালে যখন সে এসকেবেটর তৈরী করেছিলো, তার আগে একটি হেলিকপ্টার তৈরী করছিলো। কিন্তু, পড়াশুনার ক্ষতি হবে এমন ধারণা করে সেসময় বাবা আসাদুল ইসলাম রাগান্বিত হয়ে তৈরীকৃত হেলিকপ্টারটি ভেঙে ফেলেন। কিন্তু, মাত্র ২শ টাকার বিনিময়ে যখন পানির পাম্পের শক্তিতে চলে মাটিকাটা যন্ত্র (এসকেবেটর) তৈরী করে, তারপর থেকে থেকে পিতামাতা ও আত্মীয় স্বজনের উৎসাহে ফের হেলিকপ্টার তৈরীর বাসনা জাগে তার। এসময় সে আরো বলেন, দারিদ্র বাবার পক্ষে হেলিকপ্টার তৈরীর জন্যে প্রায় ৪৫/৫০হাজার টাকা জোগাড় করা কখনো সম্ভব ছিলোনা। এ কারনে সন্তানের স্বপ্নপূরণে আমার পিতামাতা সমিতি থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। আর আমি আমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভের জন্যে যাতায়াতের একমাত্র সাইকেলটি সহ মুঠোফোন ও ছাগল বিক্রয় করে দিই। নিজ ও নিজের পরিবারের যতটুকু সামর্থ্য ছিলো তা দিয়ে হেলিকপ্টারটি তৈরী করার চেষ্টা করেছি। তবে এখন অর্থের অভাবে বাকি কাজগুলো করতে পারছি না। ক্ষোভের সাথে এসময় ইমরান আরো বলেন, ২০১৮ সালে দাখিল পরীক্ষার আগে যখন আমি এসকেবেটর তৈরী করি সেসময় সাতক্ষীরা নবজীবন পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট থেকে আমার মেধা বিকাশে তারা সার্বিকভাবে সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে আমাকে তাদের প্রতিষ্ঠানের হয়ে লেখাপড়ার কথা জানান। তবে দাখিল পরীক্ষার শেষে সেখানে ভর্তি হলেও তারা কোনভাবে সহযোগীতা ও খোঁজখবর নেননি।

এসময় তার তৈরীকৃত হেলিকপ্টার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সে জানান, আমার নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে হেলিকপ্টারটি তৈরী করার চেষ্টা করছি। এই প্রযুক্তিতে হেলিকপ্টার আকাশে উড়াতে হলে উন্নত পাখা ও মেশিনসহ আরো কিছু যন্ত্রাংশ দরকার। কিন্তু টাকার অভাবে সেসব যন্ত্রাংশ কিনতে পারছেন না। তবে তার তৈরীকৃত হেলিকপ্টারে ৩জন মানুষ চড়তে পারবেন। তবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে ১জন মানুষকে চড়িয়ে তার তৈরীকৃত হেলিকপ্টারটি পরীক্ষামূলক ভাবে আকাশে উড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পরীক্ষামূলক ভাবে যদি তৈরীকৃত হেলিকপ্টারটি আকাশে উড়তে সক্ষম হয় কোন সমস্যা ছাড়াই, তাহলে এটিতে আরো দুইজন মানুষ বসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এসময় ইমরান হেলিকপ্টার তৈরি করতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে বলেন, আমার মেধা থাকলেও আমার টাকা নেই যেটি দ্বারা নিজের মেধার মূল্যায়ন করতে পারবো। বাবা দিনমজুর, তারও সহযোগিতার আগ্রহ আছে। কিন্তু তার সাধ্য নেই আমার জন্য এত টাকা ব্যয় করার। নিজেকে উদ্ভাবক হিসেবে দেখতে চাই জানিয়ে সে বলেন, প্রকৌশল বিদ্যাকে আনতে চাই হাতের মুঠোয়। খেলনা দিয়ে শুরু করে তা বাস্তবেও কাজে লাগাতে চাই। আমার লক্ষ্য ভবিষ্যতে যন্ত্র প্রকৌশলী হওয়া। আর নিজেকে নানা উদ্ভাবনে সমর্পণ করার অদম্য ইচ্ছা আমার। তবে এজন্য সকলের সহযোগীতা ও দোয়া চেয়েছেন ইমরান হোসেন।

ইমরান হোসেনের বাবা আসাদুল ইসলাম বলেন, এসকেবেটর তৈরি করতে গিয়ে অনেকের বাজে কথা শুনতে হয়েছে তার ছেলেকে। ছেলের পড়াশুনা বাদে এ সমস্ত কাজ তিনি নিজেও পছন্দ করতেন না। তবে এসকেবেটর তৈরির পর তিনি সহ অনেকেই ভরসা পেয়েছেন যে ইমরান আরো কিছু করতে পারবে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল বলেন, ইমরান সহ ইমরানের মতো প্রতিভাবান দের পাশে সর্বদা থাকবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। তবে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নতুন গ্রহণ করায় কিছুদিন পরে ইমরান হোসেনকে নিয়ে তার সাথে দেখা করার কথা জানান এ প্রতিবেদকের।