সরুলিয়ায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মৌলভীবাড়ী আল আকসা জামে মসজিদে মত বিনিময় সভা

52

ইয়াছিন আলী: সরুলিয়ায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মৌলভীবাড়ীর খান সাহেব আব্দুল ওয়ালীর প্রতিষ্ঠিত আল আকসা জামে মসজিদ সংস্কার করার জন্য মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠানে সরুলিয়া খান সাহেব আব্দুল ওয়ালী ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ সামছুদ্দীন সরদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তালা- কলারোয়ার সংসদ সদস্য এ্যাড. মোস্তফা লুৎফুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সরুলিয়া খান সাহেব আব্দুল ওয়ালী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান খান, দপ্তর সম্পাদক নুর মোহাম্মদ গাজী, সরুলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রভাষক কল্যাণ কুমার ঘোষ, নগরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপু, ধানদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সহ মোঃ ইখতিয়ার হোসেন, জয়নাল সরদার, মাষ্টার জাহাঙ্গীর, হাফিজুর রহমান প্রমূখ।

উল্লেখ্য খান সাহেব আব্দুল ওয়ালী পন্ডিত, নৃবিজ্ঞানী ও সংগ্রাহক ছিলেন। ১৮৫৬ সালে সাতক্ষীরা জেলার সরুলিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। আব্দুল ওয়ালির পিতা আব্দুর রউফ উনিশ শতকের গোড়ার দিকে একজন মুনসিফ ছিলেন। কর্নওয়ালিস-এর সময়ে মুনসিফ কোর্ট ছিল বিচার বিভাগের সর্বনিম্ন ধাপ এবং তা পরিচালিত হতো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মুনসিফ উপাধীধারী দেশিয় বিচারকবৃন্দের দ্বারা। ১৮৪০ সালের পূর্ব পর্যন্ত ক্ষয়িষ্ণু মুগল শাসনামলে মুনসিফদের অধিকাংশই ছিলেন মুসলমান। মৌলবি আব্দুর রউফ ছিলেন এ মুসলিম মুনসিফদের একজন। তাঁর পিতামহ মোল্লা নঈম ফোর্ট উইলিয়ম কলেজএর ফারসি ভাষার শিক্ষক ছিলেন।

আব্দুল ওয়ালী তাঁর নিজ গৃহেই ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। প্রাচীন ঐতিহ্যে বিশ্বাসী একজন পেশাদার শিক্ষকের কাছে তিনি ফারসি, আরবি এবং উর্দু ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। ইংরেজি শিক্ষার জন্য আব্দুল ওয়ালি কলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাস করার পর তিনি ১৮৮৩ সালে বি.এ পড়ার জন্য কলকাতায় মিশনারিদের দ্বারা পরিচালিত সেন্ট-জেভিয়ার্স কলেজে ভর্তি হন।

১৮৮৪ সালে আব্দুল ওয়ালী সরকারের ল্যান্ড রেজিস্ট্রেশন বিভাগে রুরাল সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন। তাঁর চাকুরির কারণেই অধিকাংশ সময়ে তাঁকে মফস্বল এলাকায় কাজ করতে হয়েছিল। চাকুরির শেষ পর্যায়ে ১৯১১ সালে আব্দুল ওয়ালী কলকাতায় রেজিষ্ট্রার অব অ্যাসুরেন্স হিসেবে অধিষ্ঠিত হন। ওয়ালী খান তাঁর গ্রামে থাকা সময়কে অর্থবহ করে তুলেছিলেন গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতির নানা চালচিত্র সংগ্রহ ও গবেষণা করে। তিনি গ্রামীণ জীবনের নানাবিধ উপাদান, সাধারণ মানুষের জীবনচর্চা ও বিশ্বাসসহ প্রচলিত লোকধর্ম এবং জাতিভেদ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯২৬ সালে ওয়ালী খান ইন্তেকাল করেন। কলকাতা এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত তাঁর মৃত্যুর শোকসংবাদে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জোহান ভ্যান ম্যানেন ওয়ালী খান সাহেবের মেধা ও পান্ডিত্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ শোকবাণীতে ম্যানেন উল্লেখ করেন যে, তৎকালীন বিশ্ববিখ্যাত সমাজ বিজ্ঞানী এবং প্রাচ্য ঐতিহ্যবিদগণের সঙ্গে ওয়ালির একটি ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল।