সরকারি নিবন্ধন ও সংগঠনের অনুমোদন বিহীন শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ নামক ভূইফোড় সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

484
শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ
শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ

কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলাধীন ১১নং দেয়াড়া ইউনিয়নের পাকুড়িয়া (০৬নং ওয়ার্ড) গ্রামে সরকারি নিবন্ধন বা নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনকৃত সংগঠনের অনুমোদনবিহীন ভূইফোড় সংগঠন শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রধান কার্যালয়ের অফিস গড়ে উড়েছে।বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ক্লাব গঠনের যে সরকারি বিধি-বিধান বা সংগঠনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত সংগঠনের অনুমোদনের যে নিয়ম-কানুন রয়েছে,তার কোনটিই মেনে গড়ে তোলা হয়নি শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ নামক এই ভূইফোড় সংগঠনটি।

সারাদিন-রাত এই ভূইফোড় সংগঠন/ক্লাবের কথিত প্রধান কার্যালয়ে চলে তাসের জুয়া।শেখ রাসেলের নাম ও ছবি ব্যবহার করার ফলে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ হওয়ার পরও ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস দেখায় না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

১১নং দেয়াড়া ইউনিয়ন তাতি লীগের সভাপতি মোঃ আলমগির হোসেন জানান,শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের নাম দিয়ে গড়ে তোলা অফিসে শুধু তাসের জুয়াই নয়,চলে মাদকের যত্রতত্র ব্যবহার।যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শেখ রাসেলকে অসন্মান করার শামিল।

এছাড়া ১১নং দেয়াড়া ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি স.ম.আব্দুল্লাহ অভিযোগের সুরে বলেন,পাকুড়িয়া গ্রামে অবস্থিত শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রধান কার্যালয় হলে ঢাকার’টা কি? আর একই দেশে একই নামে দুটি সংগঠন চলতে কি পারে?

এছাড়া তিনি আরও জানান,শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের সাইন বোর্ডে শেখ রাসেলের যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে,তা দেখলেই মনে হবে যেন মিনার কার্টুনের মিনার ভাই রাজুর ছবি।যা ছবি বিকৃতির শামিল।জুয়ার আসর বসানোর জন্য একটি নিরাপদ ঘর প্রয়োজন ছিল,তাই যেনতেন একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে একটি কুচক্রী মহল।

সরেজমিনে গিয়েও কয়েকজন উঠতি বয়সী তরুণকে দেখা যায় তাস খেলতে।শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের অনুমোদনের বৈধ কোন কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে উপস্থিত যুবকেরা কোন সদুত্তর দিতে পারিনি।তাস খেলারত যুবকেরা স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার নাম বলেন যে তিনিই এই অফিসটি তৈরী করে দিয়েছেন ১০-১৫ দিন হলো,এখনও ঘেরার কাজ সম্পন্ন হয়নি।

পরে স্থানীয় সেই আওয়ামীলীগ নেতার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফোন দিলেও রিসিভ করেননি এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানোর পরও কোন রিপ্লাই পাইনি।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে আরও জানা যায়,শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রধান কার্যালয়ের অফিস যে জায়গাটিতে গড়ে উঠেছে, সেটি মূলত একজন হিন্দু ব্যক্তির জমি।অবৈধভাবে দখলের মাধ্যমে সংগঠনটির অফিস করা হয়েছে।জমির মালিক হিন্দু হওয়ায় এবং শেখ রাসেলের ছবি ও নাম থাকায় ভূক্তভোগীরা প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ,সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহল,অবৈধভাবে অনুমোদনবিহীন শেখ রাসেল স্মৃতি সংঘের কার্যালয়ের আড়ালে জুয়া খেলার যে আসর গড়ে তুলেছে কুচক্রী মহল,তার প্রতিকার চেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ সহ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।।