সকালটা সব সময় শুভ হয় নাঃ কেশবপুর থানার এএসআই শ্যামল সরকার

1
সকালটা সব সময় শুভ হয় নাঃ কেশবপুর থানার এএসআই শ্যামল সরকার

আজিজুর রহমান, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: রাতের ডিউটি শেষ করে সঙ্গীয় ফোর্সদের থানায় রেখে ঘুমঘুম চোখে নিজ বাইকে করে বাসাতে ফিরছিলাম। কেশবপুর উপজেলা মসজিদের গেটে পৌছাতেই দেখি এই হুজুর আরেক হুজুরকে ধরে কোন কায়দায় হাটিয়ে মেইন রোডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

তখন আমি দাড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কি হয়েছে? হুজুররা বললেন, স্যার উনি হঠাৎ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। বললাম তা এদিকে কেন? হাসপাতাল তো ঐ দিকে! উনি বললেন আমরা তো চিনিনা, আমরা এখানে তাবলীগ জামাতে এসেছি। আমি কালক্ষেপন না করে দুজনকেই আমার বাইকে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দিকে দিকে রওনা করলাম। পিছন থেকে অসুস্থ লোকটি বলছে একটু তাড়াতাড়ি চলেন। আমি স্বল্প সময়ের মধ্য উনাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে হাজির হলাম।

উনার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে, খিচুনি মারছে। রোগীর সাথে যিনি ছিলেন তিনি নামাজে চলে গেছেন। আমি চেষ্টা করছি পায়ের তালু এবং হাতের তালু ঘষে গরম করতে। ডাক্তার সাহেব এলেন, ভর্তি করে নিলেন উনাকে। তারপর ওষুধপত্র দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেডে রেখে এলাম। আসবার সময় উনি আমার হাত ধরে বললেন, “যদি বেঁচে থাকি আবার দেখা হবে, আপনাকে আমার বাড়ীতে নিয়ে যাবো। আমি বললাম কাল সকালেই দেখা হবে। আমি সকালে এসে দেখা করব। এখন সকালের জন্য অপেক্ষা করছি। অসংখ্য বিতর্ক থাকলেও মাঝে মাঝে পুলিশের চাকরীটা এজন্য বড্ড ভাল লাগে।

কত সহজে মানুষের মন জয় করে নেওয়া যাই। লেখাটি কেশবপুর থানার এএসআই শ্যামল সরকার এর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া। এই ঘটনাটি নিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ভোরে পোস্ট দিলে অনেকেই তার এই মহত কাজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।